বহিরাগত তোষণের ফলেই হাওড়ায় আক্রান্ত বাংলার পুলিশ: বাংলাপক্ষ

0
2084

সৌমেন শীল, কলকাতা: বাঙালি জনসংখ্যার হার কমে যাওয়াতেই বাংলার পুলিশের উপরে হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। হাওড়া জেলার টিকিয়াপাড়ার ঘটনা নিয়ে এমনই মনে করছে বাঙালি জাতীয়াবাদী সংগঠন বাংলাপক্ষ। এই ঘটনার সঙ্গে ধর্মের রঙ খোঁজার কোনও মানে হয় না বলেও দাবি করেছে বাংলাপক্ষের নেতারা।

ইতিমধ্যেই টিকিয়াপাড়ার ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ধর্মীয় স্লোগান শোনা গিয়েছে স্থানীয়দের মুখে। পুলিশকে আক্রান্ত হতে দেখে অনেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে বাংলাপক্ষের নেতা কৌশিক মাইতি বলেছেন, “বাঙালি যেখানে সংখ্যালঘু সমস্যা সেখানে। যারা বাংলার পুলিশকে ইঁট মারছে তাদের ভাষা কি বাংলা?” একই সঙ্গে কৌশিকবাবুর আরও প্রশ্ন, “বাংলায় মাটিতে পুলিশকে ইঁট মারার সাহস বাঙালির আছে?”

টিকিয়াপাড়ার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোষণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপির নেতানেত্রীরা। এই বিষয়ে কৌশিক মাইতি বলেছেন, “এই ঘটনার সঙ্গে ধ্ররম খুঁজবেন না। বাংলার অনেক জায়গায় মুসলমান রয়েছে। বাঙালি মুসলমান যেখানে সংখ্যাগুরু সেই সব জায়গায় তো কিছু হচ্ছে না। গত ১০ বছরে টিকিয়াপাড়ায় বাঙালির শতাংশ কত কমেছে? পুলিশের উপরে হামলার উত্তর সেখানেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

টিকিয়াপাড়ার ঘটনা নিয়ে বাংলাপক্ষের সভাপতি গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “আমরা বাঙালী জাতীয়তাবাদী। আমরা টিকিয়াপাড়া ও ভাটপাড়ার মধ্যে তফাৎ দেখিনা। আবর্জনার গন্ধে, গুটখার রঙে ধর্ম খুঁজি না। গুটখা মুক্ত বাংলা চাই। সব পাড়া বাঙালীর চাই।”

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উত্তাল হয়ে ওঠে হাওড়া জেলার টিকিয়াপাড়া। ওই এলাকার বেলিলিয়াস রোডের সন্নিকটে অবস্থিত মসজিদ রোডে লকডাউনের কোনও নিয়ম মানা হচ্ছিল না। সংখ্যালঘু অধ্যূষিত ওই এলাকায় বহু মানুষ রমজান মাসে একত্রিত হয়ে খাওয়া-দাওয়া করা থেকে আরম্ভ করে উৎসব পালন করছিল।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। থিকথিকে ভিড়। কোথাও লকডাউন বিধির বিন্দুমাত্র মানা হচ্ছিল না। সামাজিক দূরত্বের বিধির কোনও তোয়াক্কা করা হয়নি। ওই পরিস্তিতি সামাল দিতে গিয়েই আক্রান্ত হতে হয় পুলিশ কর্মীদের। একদল উন্মত্ত জনতা তেড়ে আসে পুলিশকে দেখে। উন্মত্ত জনতার সামনে কার্যত দিশাহারা অবস্থা হয়ে যায় পুলিশের। বিশেষ কিছুই করে উঠতে পারেনি পুলিশ। উলটে প্রাণ বাঁচাতে উলটো দিকে ছুটতে শুরু করে পুলিশ।

রাস্তার সকল প্রান্ত থেকে ঘিরে ফেলা হয় পুলিশদেরকে। এরপরেই শুরু হয়ে যায় ইট বৃষ্টি। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর মিলেছে সূত্র মারফত। পুলিশের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলেকায় র‍্যাফ নামানো হয়েছে।