রাম না জন্মাতেই রামায়ণের কাহিনী: ভ্যাকসিন না নিয়েও ভ্যাকসিনেশনের মেসেজ, চমকে উঠলেন ব্যক্তি

0
41

খাস খবর ডেস্ক: ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া থেকেই বারবার প্রকাশ্যে এসেছে ভ্যাকসিন নিয়ে হয়রানির খবর। এবার হয়রানির শিকার হলেন এক নদিয়ার এক ব্যক্তি। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ না নিয়েও এল ভ্যাকসিন সম্পন্ন হওয়ার মেসেজ। রীতিমতো শংসাপত্রও হাতে পেয়েছেন তিনি। ওয়েবসাইটে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে জানান অভিযোগ। স্বাস্থ্য দফতরে যোগাযোগ জানিয়েও মেলেনি সুরাহা। আশ্চর্যজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের মায়াপুর বামুনপুকুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

আরও পড়ুনঃ নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল: মোদীর জন্মদিনের কর্মসূচি ঘিরে বলছেন বাসিন্দারা

- Advertisement -

অভিযোগ, বামন পুকুরের বাসিন্দা রাজকুমার দে। গতকয়েকদিন আগে কোভিড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসনের মাধ্যমে বৈধ স্টাম্প যুক্ত টোকেন সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু প্রাপ্ত টোকেনের উল্লেখিত তারিখে স্থানীয় বামুনপুকুর হাই স্কুল প্রাঙ্গণে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না বলে জানায় ক্যাম্পে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশাপাশি ভ্যাকসিন নিতে গেলে তাঁকে ফের নতুন করে বৈধ টোকেন সংগ্রহ করতে বলা হয় সংশ্লিষ্ট ভ্যাকসিনেসন ক্যাম্প থেকে।

আরও পড়ুনঃযুগলকে ঘর বাঁধতে সাহায্য করেছিল মেয়েটি, শাস্তি হিসেবে চোখে ঢালা হল অ্যাসিড

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সুনীল বিশ্বাসের সাথে দেখা করতে বলা হয় তাঁকে। সেইমত রাজকুমারবাবু শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্ব সুনীল বিশ্বাসের সাথে দেখা করে বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেওয়া হয় ক্যাম্প থেকে। এদিকে ভ্যাকসিন না পেয়েও ওইদিন বিকেলে তাঁর প্রথম ভ্যাকসিন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলে একটি মেসেজ আসে রাজকুমারবাবুর মোবাইলে। তাঁর নামে উল্লেখিত ভ্যাকসিনেশন সম্পন্ন হওয়ার শংসাপত্রও হাতে পান তিনি।

সম্পূর্ণ ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ব্লক আধিকারিক অফিসে ফোনের মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করেন রাজকুমারবাবু। সেখানেও তাঁর কথা না শুনে ফোন কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ, শংসাপত্রে উল্লেখিত যেই কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মী তাঁকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন, বাস্তবে তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে মাতৃত্বকালীন ছুটি উপভোগ করছেন বলে জানা গিয়েছে স্থানীয় সূত্রে।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে, ভ্যাকসিনেশনের দিন যেই স্বাস্থ্যকর্মী ছুটিতে রয়েছেন তিনি কিভাবে ভ্যাকসিন প্রদান করলেন রাজকুমারবাবুকে? যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর সার্বিক সুরক্ষার দিকে নজর রাখতে গিয়ে সুষ্ঠু পরিষেবার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই জায়গা থেকেভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর এই দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবেই আর একবার প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে।

এদিকে কোভিড ভ্যাকসিন না পেয়েও তাঁর নামে শংসাপত্র হাতে পাওয়ার ঘটনায় ভবিষ্যতে তিনি আদৌও ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন কিনা সেই বিষয়ে নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বামনপুকুরের বাসিন্দা রাজকুমার দের। যদিও বিষয়টা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মায়াপুর বামুনপুকুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মীর সাইনুর হক। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনও ঘটনা না ঘটে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বলেও এই দিন আশ্বাস দেন উপপ্রধান।