২১ লাখ টাকা খরচ করেও বউকে বাঁচাতে পারেননি, অবসাদ থেকেই কি আত্মহননের চেষ্টা

0
69

কলকাতা: যমে-মানুষে টানাটানি অবস্থার মধ্যে রয়েছেন লেকটাউনের দক্ষিণদাঁড়ির বাসিন্দা সুজিত অধিকারী৷ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সের আটতলার জানালা দিয়ে কার্নিসে ওঠার পর থেকেই তিনি খবরের শিরোনামে৷ দেড় ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করলেও যাকে নামাতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন৷ অবশেষে হাত ফস্কে নিচে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া ওই ব্যক্তির এমন পরিস্থিতির জন্য এবার হাসপাতালের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুললেন পরিজনেরা৷ সুজিতের ঠাকুমা শিবানী অধিকারী, পিসি মঞ্জু দাসেরা বলেন, ‘‘এতবড় হাসপাতালে কি গার্ড থাকে না? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ৷ সূত্রের খবর, আইটিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা চলছে সুজিতের৷

ঘটনার পর থেকেই ভেঙে পড়েছেন সুজিতের ঠাকুমা শিবানী অধিকারী৷ জানিয়েছেন, ছ’মাস বয়স থেকে সুজিত তাঁর কাছেই মানুষ৷ বলছিলেন, ‘‘দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে সুজিতের সুখের সংসার ছিল৷ আচমকাই বউটার রোগ ধরা পড়ল৷ ২১ লাখ টাকা খরচ করে ট্রিটমেন্ট করিয়েও বউটাকে বাঁচাতে পারেনি৷ তারপর থেকেই কেমন যেন অবসাদে ঘিরে ধরেছিল ওকে৷’’ পাশ থেকে বোন মঞ্জু অধিকারী বলেন, ‘‘দু’দিন আগে ওকে INK তে ভর্তি করা হয়েছিল৷ এত বড় হাসপাতাল৷ কিন্তু সেখানে কি রোগীদের কোনও গার্ড থাকে না?’’

- Advertisement -

ঠাকুমা শিবানী অধিকারী বলেন, ‘‘সাড়ে ১১টা নাগাদ ফোন আসে৷ ওপার থেকে চিৎকার শুনে চমকে উঠি৷ আমরা ছুটে যায়৷ আমি চিৎকার করে কাঁদতে এবার মুখ ঘুরিয়ে দেখেছিল৷ কিন্তু সবাই থেকেও ছেলেটাকে নীচে নামাতে পারল না৷ হাত ফস্কে পড়ে গেল!’’ শিবানীদেবী বলেন, ‘‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তো অবশ্যই গাফিলতি রয়েছে৷ তাছাড়া এমন ঘটনা ঘটে কি করে? তবে আমাদের ছেলে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসুক এটাই চাই৷’’ একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘দেড় ঘণ্টা সময় পেয়েও প্রশাসন কিছু করতে পারল না কেন?’’ আক্ষেপের সুরে যোগ করেছেন, ‘ওরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল৷ ছেলেটা আটতলা থেকে নীচে পড়ে গেল৷ কেউ কিচ্ছু করল না৷’’লেকটাউনের দক্ষিণদাঁড়ির বাড়ি জুড়ে এখন শুধুই শোকের ছায়া৷ নাতির জীবন ভিক্ষা চেয়ে ঠাকুরের কাছে মাথা কুটছেন ঠাকুমা৷

আরও পড়ুন: সারদা কর্তাকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি বিজেপি সাংসদের