যুদ্ধের ময়দান থেকে শত্রুতা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বকাপে-ও, ইরানের সামনে আমেরিকা

0
54

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: যাকে বলে, আদায় আর কাঁচকলায়। এই মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতিতে ঠিক এমনটাই সম্পর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের। এতটাই জটিল পরিস্থিতি যে যুদ্ধ যে কোনও সময় বেঁধে যেতে পারে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার দুই দেশ একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মঞ্চ ছাপিয়ে বারুদের গন্ধ এসে পড়ছে ফুটবল ময়দানেও।

আরও পড়ুন: কারা খেলবেন বিশ্বকাপ ফাইনাল, জানালেন ব্রাজিলিয়ান জ্যোতিষী

- Advertisement -

ইতিপূর্বে বর্তমানে চলা ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনকে উসকে দিতে চেয়েছিল মার্কিন ফুটবল ফেডারেশন। তারা নারী মানবাধিকারের পক্ষ নিয়ে ইরানের জাতীয় পতাকার বিকৃতি ঘটিয়েছিল। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এক তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনকে। কার্যত সেই গনগনে আঁচের মধ্যেই মঙ্গলবার মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দেশ।

ম্যাচের আগে থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে সেই গনগনে আঁচ। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন কোচ গ্রেগ বেরহাল্টার এবং দলের অধিনায়ক টাইলার অ্যাডামসকে ইরানি সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আইন এবং আরও নানা ধরণের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। একজন সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্র নামটি রীতিমত বিকৃত উচ্চারণ করেছেন।

এছাড়া ইরানের পতাকা বিকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। যদিও সে প্রশ্ন সাবলীল ছন্দেই সামলেছেন কোচ বেরহাল্টার। তাঁর কথায়, “একটা কথাই আমি বলতে চাই। তা হল, আমাদের দলের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। অনেক কিছুই আমাদের হাতের বাইরে।” এরই সঙ্গে যোগ করেন, “আমরা শুধু একটাই কাজ পারি এ মুহূর্তে। তা হলে সকলের তরফ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে। আমাদের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি নকআউট। আমরা তাই শুধু সেদিকেই মন দিতে চাই।”

যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের শত্রুতা আজকের নয়। শুরু সেই ১৯৭৯ সালে। তেহেরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি পরিস্থিতি নিয়ে বৈরীতা শুরু দুই দেশের। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, দুই পক্ষের শত্রুতা বাড়তেই থেকেছে। এখন তো উভয় দেশই ওত পেতে রয়েছে। একটু বেচাল দেখলেই একে অপরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে এক ভয়ঙ্কর মারণ যুদ্ধে। এদিকে ফুটবলের যুদ্ধে অবশ্য ইরানিরা-ই এগিয়ে।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

এদিন যদি তারা ড্র করে তাহলেই নকআউটে প্রথমবারে পৌঁছে যাবে তারা। অন্যদিকে যদি আমেরিকাকে শেষ ষোলোয় পৌঁছতে হয়, তাহলে কিন্তু তাদের জিততেই হবে। সব মিলিয়ে তাই শুধু ম্যাচেই মনোনিবেশ করতে চান মার্কিনিরা। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে এই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছিল ইরানকে। যার নেপথ্যে দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরীতার প্রভাব-ই ছিল বলে মনে করা হয়। আমেরিকার বিরুদ্ধে বাড়তি উজ্জীবিত হয়ে নেমেছিল ইরান। মার্কিন কোচ বেরহাল্টার সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, সেই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিতে চান তাঁরা। ইরানের কোচ কার্লোস কুইরোজ অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা বিকৃতিকে একটি মেন্টাল গেম হিসেবেই দেখছেন।