শৈলেন মান্নার পা রক্তমাংসের না লোহার, পরীক্ষা করেছিলেন ইংল্যান্ডের রানী

0
147

শান্তি রায়চৌধুরী: শৈলেন মান্নার পায়ের শটে এতটাই জোর ছিল যে বিপক্ষের গোলরক্ষক সবসময়ই শঙ্কিত থাকতেন। শোনা যায়, একবার তাঁর শটের বল ধরতে গিয়ে বিপক্ষের এক গোলরক্ষকের হাত ভেঙে গিয়েছিল। পায়ের মুন্সিয়ানার জোরে তিনি ভারতীয় ফুটবল দলেও অল্প দিনেই জায়গা করে নিয়েছিলেন। একটানা ১৯ বছর খেলেছিলেন।

আরও পড়ুন: IPL 2022 : কেন এত দুরাবস্থা চেন্নাই সুপার কিংসের, অবশেষে সামনে এল সত্যি

১৯৪৮ সালে লন্ডন অলিম্পিকে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি। সেবার ফ্রান্সের সঙ্গে দুর্দান্ত খেলে মাত্র ১-২ ব্যবধানে হেরে যায় ভারত। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি শৈলেন মান্না। সেই আক্ষেপ দীর্ঘদিন ছিল তাঁর মধ্যে। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের রানীর আমন্ত্রনে দেখা করতে গিয়েছিল ভারতীয় দল। সেই আমন্ত্রণ সভায় ইংরেজ রানী খুঁজে নিয়েছিলেন, ডিফেন্ডার মান্না-কে। আর তাঁর কাছে এসেই পায়ে হাত দিয়ে টিপে টিপে দেখে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন, সেই পা সত্যিই রক্ত-মাংসের নাকি লোহার?

একমাত্র ১৯৫০ -এর ফুটবল বিশ্বকাপে সুযোগ পায় ভারতীয় ফুটবল দল। সেই বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বিশ্বকাপে অংশ না নিতে পারার আক্ষেপ তিনি সারা জীবন ভুলতে পারেননি। ১৯৫১ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই ভারত এশিয়ান গেমসে সোনা পায়। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সাল, টানা ৪ বার কুয়ানড্রাগুলার টুর্নামেন্ট জয়লাভ।

১৯৫২-তে তাঁরই নেতৃত্বে অলিম্পিকে খেলে ভারতীয় ফুটবল দল। আর এই সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন একবছর পরেই। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ইয়ারবুকে বিশ্বের সেরা ১০ ফুটবল অধিনায়কের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই শুরু, সেই শেষ। এশিয়া মহাদেশের কোনও ফুটবল অধিনায়ক আজও বিশ্বের সেরা ১০ ক্যাপ্টেনের মধ্যে নির্বাচিত হননি।

সারা জীবন মোহনবাগানই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। তাইতো শৈলেন মান্না কোনও কোনও সময়ে বলতেন, “সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারি কিন্তু মোহনবাগান ত্যাগ করে অন্য কোথায় যেতে পারি না।” সত্যিই তাই। শৈলেন মান্না মোহনবাগানকে “দ্বিতীয় মা” হিসেবে প্রণাম করতেন। মোহনবাগান তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ– বড় প্রাপ্তি।

কিন্তু একসময় ক্লাব থেকে নিয়েছিলেন মাত্র ১৫ টাকা! হ্যাঁ। আর ওই ১৫ টাকাই তিনি নিয়েছিলেন প্রথম বছরে। সেবার সইয়ের পর ১৫ টাকা নেওয়ার গল্প বাড়িতে গিয়ে বলেছিলেন তিনি। আর দ্যাখে কে! তাঁর মামা-রা বলেছিলেন, “তুমি মোহনবাগানে খেলবে, আবার সেখান থেকে পয়সাও নেবে! যাও, টাকা ফেরত দিয়ে এসো!”

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

মান্নাদা সেই টাকা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মোহনবাগান ক্লাব কর্তারাই আর সেই টাকা ফেরত নেননি। আর মান্না দা-ও পরে কোনওদিন ক্লাব থেকে একটা পয়সাও নেননি। ১৯৭১-এ ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দেয়। গোষ্ট পালের পর তিনিই প্রথম ফুটবলার যাকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়। ২০০১ সালে মোহনবাগান তাঁকে দিয়েছিল রত্ন সম্মান।