মোহনবাগানের হয়ে ফেড কাপ জয়ই জীবনের সেরা মুহূর্ত: উলাগানাথন

0
26

বেঙ্গালুরু: হতে পারে বেঙ্গালুরুতে জন্ম এবং বর্তমান নিবাস। কিন্তু কলকাতা তাঁর অন্তরে। তিনি নারায়ণস্বামী উলাগানাথন। যাঁর কাছে কলকাতা— নাঃ সেকেন্ড হোম নয়। বরং নিজের ঘরবাড়ি-ই। একটা সময় কলকাতা ময়দানের তিন প্রধানের জার্সিই গায়ে দিয়েছেন। করেছেন গোলের পর গোল। আজও যা তাঁর স্মৃতিতে ভাসে। বেঙ্গালুরুতে বসে খাস খবরের প্রতিনিধিকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতিই রোমন্থন করলেন প্রাক্তন উইঙ্গার।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

প্রঃ বেঙ্গালুরুতে বহু বছর হল। তবু মনটা কোথাও কী সেই কলকাতাতেই পড়ে আছে?

উলাগানাথনঃ আমার তো কলকাতায় বাড়ি রয়েছে। চিনার পার্কে। আসলে বেঙ্গালুরুতেই খুব কম থাকি আমি। বছরের ৯ মাসই কলকাতায় থাকি। এই মুহূর্তে বেঙ্গালুরুতে রয়েছি। এখানেও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ হয়। আসলে যতদিন বাঁচব, কলকাতা ছাড়তে পারব না আমি। কারণ জীবনে যা সম্মান পেয়েছি, সবই কলকাতায়। বেঙ্গালুরুতে ততটাও সম্মান পাইনি। যা পেয়েছি কলকাতায় পেয়েছি।

প্রঃ স্ত্রী-ও কলকাতার…

উলাগানাথনঃ (হেসে) হ্যাঁ, স্ত্রী-ও কলকাতার।

প্রঃ মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল, দুটি দলেই খেলা হয়েছে। আর মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল মানেই বাঙালির চিরাচরিত এক বিতর্কের বিষয়। ইলিশ-চিংড়ির লড়াই। যা আজও একইরকম। আপনি কোন দলের হয়ে খেলে সবথেকে পরিতৃপ্ত?

উলাগানাথনঃ শুধু ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান নয়। আমি বাংলার তিনটি দলের হয়েই খেলেছি। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান আর মহামেডান। তবে মোহনবাগান আমার কাছে সবসময়ই বেশি প্রিয়। ওখানে আমি ৮ বছর খেলেছি। ১৯৭৪ সালে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গোল করেছি। এছাড়া জেসিটির বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছি। সে বছর আমি দুটো হ্যাটট্রিক করেছিলাম। তাছাড়া টুর্নামেন্টে সবথেকে বেশি গোল আমিই করেছিলাম। ৮ গোল। এরপর ১৯৭৬ সালে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে দ্রুততম গোলে আমি অ্যাসিস্ট করেছি। ম্যাচের মাত্র ১৭ সেকেন্ডে সেই গোলটি করেছিলেন মহম্মদ আকবর। এরপর আমি ইস্টবেঙ্গল আর মহামেডানের হয়েও খেলেছি। আর তিনটে ক্লাবকেই ফেডারেশন কাপ দিয়েছি।

প্রঃ এখন তো বেশ কিছুদিন কলকাতার বাইরে। আবার কবে ফেরার ইচ্ছা আছে?

উলাগানাথনঃ কোভিডের জন্য তিন বছর কলকাতা যেতে পারিনি। বন্ধুদের সঙ্গে তিন বছর দেখা হয়নি। এর মধ্যেই আমার প্রিয় বন্ধু সুরজিৎ সেনগুপ্ত গত হয়েছেন। খুব খারাপ লাগছে, ওঁর সঙ্গে শেষ দেখাটাও হল না। তবে কোভিড এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। খুব শিগগিরই কলকাতায় যাব আমি। আর কলকাতাতেই বেশিদিন থাকব আমি।

প্রঃ তেহেরানে ১৯৭৪ সালের এশিয়ান গেমস। সেই স্মৃতি আজও কতখানি উজ্জ্বল?

উলাগানাথনঃ (হতাশ গলায়) সেবার আমাদের প্রস্তুতি একেবারেই ভাল হয়নি। এরপর চিন আমাদের ৭ গোল দেয়। খুব কষ্ট হয়েছিল। এমনকি আজও সেই ব্যর্থতা কষ্ট দেয়।

প্রঃ আর জাম্বিয়ায় ১৯৭৭ সালের গুডউইল ট্যুর? সে স্মৃতি কতটা অমলিন?

উলাগানাথনঃ গুডউইল ট্যুরে সত্যিই ভাল খেলেছিলাম আমরা‌। সুরজিৎ-ও ছিল সেই সময়। ও আমার রুম পার্টনার ছিল। আসলে মোহনবাগান হোক, ইস্টবেঙ্গল হোক কিংবা জাতীয় দল। সুরজিৎ সবসময়ই আমার রুম পার্টনার ছিল। ও বলত, “প্রথমেই একটা রুম বুক করে নাও। যাই হোক, গুডউইল ট্যুরে আমরা ২-৩ টে ম্যাচ খেলেছি। খুব ভাল খেলেছিলাম। গোলও করেছিলাম।

প্রঃ ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং। তিনটে ক্লাবকেই ফেডারেশন কাপ এনে দিয়েছেন। এর মধ্যে কোন সাফল্যটি একটু বেশিই স্পেশাল আপনার কাছে?

উলাগানাথনঃ চেন্নাইয়ে মোহনবাগানের হয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে নেমেছিলাম। উল্টোদিকে থাকা মহামেডানে একাধিক বাঘা বাঘা ফুটবলার ছিলেন। সেই তুলনায় আমরা ছিলাম অনেকটাই কমজোরী। এরপরেও ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছিলাম আমরা। আমি আর শ্যাম থাপা গোলদুটি করেছিলাম।

আরও পড়ুন: অহিংসাকে হাতিয়ার করেই এবার পথে নামতে চলেছেন মোহনবাগান সমর্থকেরা

প্রঃ তাহলে এই জয়ই খেলোয়াড় জীবনের সবথেকে স্পেশাল মুহূর্ত?

উলাগানাথনঃ নিঃসন্দেহে। এটিই আমার খেলোয়াড় জীবনের সেরা মুহূর্ত। মাঠে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। মোহনবাগানে প্রায় সকলেই বাঙালি। তাই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তামিল ভাষায় আমাকে আলাদা করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। সেই মুহূর্ত আজও আমার স্মৃতিতে ভাসে।

এভাবেই সুদূর বেঙ্গালুরুতে বসে অতীতের জাল বুনলেন একদা কলকাতা ময়দান কাঁপানো দক্ষিণ ভারতীয় উইঙ্গার। যদিও নামেই দক্ষিণ ভারতীয়। আসলে তিনি মনেপ্রাণে বাঙালি। আর এখন তাঁর একটাই অপেক্ষা। তিন বছর হয়ে গেল, এবারে যত দ্রুত সম্ভব কলকাতা যেতেই হবে।