“ইরানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও নিয়ম নেই”

0
34
FIFA WC: Threats to footballers' families for not singing national anthem, Iran's state broadcasting chief clarifies

স্পোর্টস ডেস্ক: ইরানে হিজাবের বিরুদ্ধে চলতি বিক্ষোভের সমর্থনে নেমেছেন ফিফা বিশ্বকাপের ফুটবলাররা। কাতারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দেশের জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার জন্য হুমকি পেতে হল ইরানি ফুটবলারদের। সূত্র অনুযায়ী, ওই ফুটবলারদেরকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের আগে তারা যদি দেশের জাতীয় সঙ্গীত না গায় তবে তাদের পরিবারকে শুধু জেলে পাঠানো হবে না তাই নয়, নির্যাতনও করা হবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রধান পেম্যান জেবেলি এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও নিয়ম নেই।”

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এর চেয়ারম্যান পেম্যান জেবেলি সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, “দোহাতে ফিফা ম্যাচ চলাকালীন আমাদের ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকার করায় ইরানের কোনও সমস্যা নেই। এমন কোনও নিয়ম নেই। লোকেরা কেবল উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখায় জাতীয় সঙ্গীতের সময়।” বর্তমানে জেবেলি তার সরকারী সফরে ভারতে রয়েছেন। ইরানকে নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়াকে তাদের সময় নষ্ট করার এবং ইরান-বিরোধী খবর ছড়ানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। তারা ইরান ও জনগণের বিরুদ্ধে বানিয়ে নানান গল্প তৈরি করে।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: Pablo Gavi : গাভির প্রতি ‘গভীর ভালোবাসায়’ স্পেনের রাজকুমারী

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরসিজি) গত ২১ নভেম্বর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পরে দলের ২৬ জন ফুটবলারের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিল। যেখানে তারা ফুটবলারদের ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বলেছিল। সেখানে বলা হয়, যদি ফুটবলাররা তা না করেন তবে সেই পরিণতি তাদের পরিবারকে ভোগ করতে হবে। ম্যাচের পর আইআরসিজির একাধিক কর্মকর্তাকে বিশ্বকাপে খেলা গোটা ইরানি দল এবং কোচিং, সাপোর্ট স্টাফদের উপর নজর রাখতে বলা হয়েছিল। ইরানি ফুটবলারদের তাদের ঘাঁটির বাইরে বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ। বিপুল সংখ্যক আইআরসিজি কর্মকর্তা কেবল কাতারে তথ্য সংগ্রহ করছেন না, ইরানি ফুটবলারদের উপরও নজর রাখছেন।

আরও পড়ুন: মারাদোনাকে টপকে আজ শীর্ষে ওঠার হাতছানি মেসির সামনে

আইআরসিজি কর্মকর্তারা ইরানের পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গে একটি পৃথক বৈঠকও করেছেন। কুইরোজ এর আগে বলেছিলেন যে, ফুটবলারদের বিশ্বকাপে পারফর্ম করার অধিকার রয়েছে, যদিও এটি ফিফার নিয়মের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে। এমনকি দাবি করা হয় যে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ফলে নাকি ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য বিপুল সংখ্যক ইরানপন্থী সমর্থককে স্টেডিয়ামে পাঠানো হয়েছিল। বিক্ষোভকারী মাহসা আমিনি গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে প্রয়াত হন। এরপর থেকে গোটা ইরানজুড়ে চলছে বিক্ষোভ, যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপেও।