লক্ষাধিক টাকা চেয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে হুমকির চিঠি, কাঠগড়ায় তৃণমূল

0
178

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে হুমকিতে নাম জড়াল তৃণমূলের৷ ফলত ফের রাজনৈতিক চাপানোত্তর সৃষ্টি হল৷ ফের বিরোধী দলের কটাক্ষের শিকার হতে হল শাসক দলকে৷ ঘটনাস্থল বাঁকুড়া৷ যদিও দল নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল৷

তৃণমূল ছাত্র পরিষদ তথা বাঁকুড়া জেলা সভাপতি তীর্থঙ্কর কুণ্ডুর ‘আপ্তসহায়ক’ হরপ্রসাদ বিশ্বাসের নাম করে বাঁকুড়া গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে ‘হুমকি’ চিঠি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। আর এই অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়া শহরে। জানা গিয়েছে, ডাক বিভাগ মারফত প্রধান শিক্ষিকা সুমনা ঘোষের কাছে চিঠিটি আসে৷

ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘‘আমার নাম হরপ্রসাদ বিশ্বাস। আমি বাঁকুড়া জেলার তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি তীর্থঙ্কর কুণ্ডুর সহায়ক। আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে আমার ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে ৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে। অনাদায়ে আপনাদের কলেজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে। এবং ছাত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ ও প্রাণনাশ করা হবে৷’’

এই হুমকি চিঠি পাওয়ার পরই স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে বাঁকুড়া সদর থানায় বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়। প্রধান শিক্ষিকা সুমনা ঘোষ চিঠির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘‘চিঠি পাওয়ার পর স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি শম্পা দরিপা ও অন্যান্য সদস্যের বিষয়টি জানাই। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি৷ চিঠিতে ‘কলেজ’ উল্লেখ থাকলেও স্কুলে আমার কাছে এসেছে৷’’

তৃণমূল ছাত্র পরিষদ তথা বাঁকুড়া জেলা সভাপতি তীর্থঙ্কর কুণ্ডুর কথায়, দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে তার কোন ‘আপ্তসহায়ক নেই’ বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলেটিকে চিনি না। তবে চিঠিতে থাকা নম্বর থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই ছেলেটি ড্রাইভার৷ কোনভাবে তার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দেবাশীষ দত্ত জানান, বাঁকুড়ার মতো শান্তিপ্রিয় জায়গায় এই ঘটনা সর্বোচ্চ নিন্দনীয়। কেমন প্রশাসন চলছে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।