‘পঞ্চম’ গানের সুরেলা সফর, বিরাশিতম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য

0
147

পূর্বাশা দাস: ১৯৩৯ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২৭শে জুন জন্মগ্রহণ করেছিলেন সুরের জাদুকর রাহুল দেব বর্মন। তাঁর সুরের জাদুতে মাতোয়ারা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী। শৈশবে বাবা সংগীত পরিচালক এবং কণ্ঠশিল্পী শচীন দেব বর্মন এবং মা মীরা দেব বর্মনের কাছেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় রাহুল দেব বর্মনের। পরবর্তীকালে উস্তাদ আলি আকবর খাঁ এবং আশিষ খানের কাছেও তালিম নিয়েছিলেন তিনি।

আর ডি বর্মন ‘পঞ্চম’ নামেও বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর এই পঞ্চম নামকরণটি করেছিলেন অশোক কুমার। এহেন নামকরণের পিছনে একটি মজার গল্প শোনা যায়। শচীন দেব বর্মনের পুত্রের জন্মের পর ‘দাদামণি’ অশোককুমার দেখতে গিয়েছিলেন। ছোট্ট রাহুল দেব বর্মনের কান্না শুনে অশোক কুমার বলেছিলেন; এই ছেলের কান্নাও সুরেলা! পঞ্চম সুরে কাঁদতেন রাহুল দেব বর্মন। তাই অশোক কুমারের কথায় সেই থেকে আর ডি এর নামকরণ হয় পঞ্চম। অগণিত ভক্তদের কাছে তিনি ‘পঞ্চমদা’।

মাত্র নয় বছর বয়সেই প্রথম সুর দিয়েছিলেন তিনি। ছবির নাম ‘ফান্টুস’। যদিও ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল অনেক পরে ১৯৫৬ সালে। এরপর ১৯৬১ তে অভিনেতা মেহমুদ প্রযোজিত ‘ছোটে নবাব’ ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেছিলেন রাহুল দেব বর্মন।

‘তিসরি মঞ্জিল’, ‘ইয়াদো কি বারাত’, ‘গোলমাল’, ‘খুবসুরত’, ‘সনম তেরি কাসাম’, ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, ‘রকি’, ‘শোলে’-র মতো জনপ্রিয় ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি। মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে প্রত্যেকের কন্ঠেই আর ডি বর্মনের সৃষ্ট সুর একের পর এক হিট গানের জন্ম দিয়েছিল।

২৯২টি হিন্দি ছবি এবং ৩১ টি বাংলা ছবি ছাড়াও তামিল, তেলেগু, ওডিয়া, মারাঠি ছবিতেও কাজ করেছেন আর ডি বর্মন। দারুন মাউথ অর্গান বাজাতে পারতেন তিনি। তাঁর বানানো সুরে যন্ত্রাংশের একটা বিরাট বড় ভূমিকা থাকত। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোজকার জীবনযাত্রার মধ্যে থেকেই বিভিন্ন  টুংটাং শব্দ নিয়ে সুর করতেন তিনি।

প্রথমা স্ত্রী রীতার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৯৮০ সালে গায়িকা আশা ভোঁসলেকে বিয়ে করেন রাহুল দেব বর্মন। তাঁর শেষ কাজ ‘১৯৪২ আ লভ্ স্টোরি’। এই গানের সুরে সকলকে ভালোবাসার ডুবিয়ে রেখেছিলেন পঞ্চম দা। এই কাজের আগে বেশ কয়েকটি কাজে সাফল্য আসেনি। তবে আশাতীত সাফল্য এনে দিয়েছিল ১৯৪২ আ লভ্ স্টোরি’। আজও বলিউডের রোমান্টিক গানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে জ্বলজ্বল করছে এই ছবির গান গুলি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই ছবি মুক্তির আগেই সকলকে কাঁদিয়ে সুরের দুনিয়ায় চলে যান পঞ্চমদা।