Sandhya Mukhopadhyay: এই পথ যদি না শেষ হত, না হয় আরও কিছুক্ষণ রহিতেন কাছে…

0
65

পূর্বাশা দাস: মাঝ ফেব্রুয়ারীতে সুরের আকাশ থেকে খসে পড়ল ‘সন্ধ্যা’তারা। সঙ্গীত জগতে নক্ষত্রপতন। অগণিত গুণমুগ্ধদের কাঁদিয়ে অমৃতলোকে পাড়ি দিলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। সকলের মুখে একটাই কথা, “কিছুক্ষণ আরও না হয় রহিতে কাছে…” কিন্তু না, তিনি পাড়ি দিলেন সেই সুদূরে; যেখানে সন্ধ্যাতারা হয়ে থাকবেন গীতশ্রী।

আরও পড়ুন: ফের নক্ষত্র পতন, প্রয়াত গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের সঙ্গে একটি যুগের অবসান হল। বহু, বহু গান গীতশ্রীর কন্ঠে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিজের সঙ্গীত জীবনে অসংখ্য গান গেয়েছেন তিনি। ‘কিছুক্ষণ আরও না হয় রহিতে কাছে’ থেকে ‘এসো-মা-লক্ষ্মী-বসো-ঘরে’, ‘তুমি আমার মা আমি তোমার মেয়ে’ সহ আরও অসংখ্য গান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই কিংবদন্তির কণ্ঠে। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বেঁচে থাকবেন তাঁর শিল্পের মধ্যে, তাঁর সৃষ্টির আধারে।

১৯৩১ সালের ৪ঠা অক্টোবর এক হেমন্তের সন্ধ্যায় ঢাকুরিয়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারে রেলকর্মী নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এবং হেমপ্রভা দেবীর কোল আলো করে এসেছিল ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। পবিবারের তরফে নাম রাখা হয়েছিল সন্ধ্যা। নরেন্দ্রনাথ এবং হেমপ্রভা দেবীর ছয় সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। বেড়ে ওঠার সাথে সাথেই গানের তালিম নিতে শুরু করেন সন্ধ্যা। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা শুরু করেন। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলি খাঁর শিষ্যা।

চল্লিশের দশকের শেষ দিকে সঙ্গীত জগতে পা রাখেন সন্ধ্যা। বেশ কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেন। মুম্বইতে হিন্দি গানের প্লেব্যাকেও যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত কিছু কারণে ১৯৫২ সালে কলকাতায় ফিরে আসেন। ১৯৬৬ সালে কবি শ্যামল গুপ্তর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। সেই সময় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এবং শ্যামল গুপ্তর বিয়ে সহজ ছিল না। কিন্তু অবশেষে ভালোবাসার জয় হয়।

জীবনে অজস্র পুরস্কার পেয়েছেন গীতশ্রী। ‘জয় জয়ন্তী’ ছবিতে আমাদের ‘ছুটি ছুটি’ এবং ‘নিশিপদ্ম’ ছবিতে ‘ওরে সকল সোনা মলিন হল’ গানের জন্য সেরা প্লেব্যাক সিঙ্গার এর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। ১৯৬৫ এবং ১৯৭২ সালে বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বেস্ট ফিমেল প্লেব্যাক সিঙ্গারের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ভারত নির্মাণ পুরস্কার। ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত করেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে। দিন কয়েক আগেই কেন্দ্রীয় সরকার পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে। কিন্তু সেই সম্মান প্রত্যাখ্যান করেন গীতশ্রী। সোজাসাপটা জানিয়ে দেন তিনি পদ্ম সম্মান গ্রহণ করবেন না। এর মধ্যে দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তার দৃঢ়চেতা মনোভাব।

তারপরই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দেওয়ার পর আর সাড়া দিলেন না তিনি। শেষ হল তার জীবনের পথচলা। আরও কিছুক্ষণ কাছে রইলেন না তিনি। গীতশ্রীর এই জীবন পথ যদি না শেষ হত, সত্যিই আরও কিছুক্ষণ না হয় রহিতেন তিনি কাছে…