‘হৃদয়ে লেখো নাম, সে নাম রয়ে যাবে’, জন্মদিনে স্মৃতি রোমন্থন কিংবদন্তি শিল্পীর

0
40
Manna Dey

খাস খবর ডেস্ক: ডাক নাম মানা।‌ প্রায় আঠারো টি ভাষায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। ছোটবেলাতে গোবর গুহর কাছে কুস্তির তালিম নেন, এবং একসময় সারা ভারত কুস্তি প্রতিযোগিতায় ফাইনালে উঠেছিলেন। ভালবাসতেন‌‌ রান্না করতে। এছাড়াও তাঁর পছন্দের তালিকায় ছিল বিভিন্ন রকমের বিদেশি ঘরি। তিনি আর কেউ নন কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী মান্না দে। এতবড় শিল্পী হয়েও শেষ জীবনে লাঞ্ছিত হয়েছেন নিজের লোকজনের কাছে। আজ ১ মে। প্রবাদপ্রতিম শিল্পী মান্না দে-র ১০৩ তম জন্মদিন। ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র এখনও বেঁচে আছেন তাঁর গানে। এখনও তিনি রয়েছে কফি হাউসের আড্ডায়, মনের মণিকোঠায়।

আরও পড়ুনঃ একটি মাত্র স্মার্ট কার্ডেই এবার ওঠা যাবে ট্রামে-বাসে-মেট্রোয়

১৯১৯ সালের ১ মে মান্না দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কলকাতায়। প্রথমে তাঁর কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে ও পরে ওস্তাদ দাবির খাঁ, উস্তাদ আমান আলি খান এবং উস্তাদ আব্দুল রহমান খানের কাছ থেকে গান শিখেছিলেন তিনি। এরপরে মুম্বই পাড়ি দিয়ে শচিন দেব বর্মণের অধীনে সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেন। এরপর কেরিয়ার শুরু হয় এবং মান্না দে তাঁর শাস্ত্রীয় জ্ঞান এবং কণ্ঠের জাদুতে সকলের মন জয় করেছেন। তাঁর রেকর্ড করা প্রথম বাংলা গান ‘কতদূরে আর নিয়ে যাবে বলো’। তারপর একে একে ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’, ‘আবার হবে তো দেখা’, ‘এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়’, ‘যদি কাগজে লেখো নাম’, ‘শাওন রাতে যদি’, ‘সে আমার ছোট বোন’- এসব গান আজও আচ্ছন্ন করে যাচ্ছে মানুষের মন।

কিংবদন্তি এই শিল্পী মহাম্মদ রফি, মান্না দে-র সবচেয়ে বড় অনুরাগী ছিলেন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, ভোজপুরি, মারাঠি, মৈথিলি,পঞ্জাবি, অসমিয়া, ওড়িয়া, কোঙ্কানি, সিন্ধি,কন্নড়, মালায়ালাম, নেপালি সহ আরও একাধিক ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন। মান্না দে তাঁর সঙ্গীত জীবনে প্রায় ৩,৫০০র বেশি গান রেকর্ড করেছেন। অনেকে মনে করেন মান্না দে কেবলমাত্র শাস্ত্রীয় সঙ্গীতই গেয়েছেন। তবে তিনি অনেক মজার গানও গেয়েছেন। সঙ্গীত ভুবনে তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে ১৯৭১ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মবিভূষণ এবং ২০০৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে সম্মান দিয়েছে৷ আবার ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণ ও প্রদান করেছে।