চুয়াত্তরে ‘খাসখবরে’র সঙ্গে খাস আড্ডায় শকুন্তলা বড়ুয়া

0
480

অর্পিতা দাস: বর্তমানে কঠিন সময়ে তাঁর ভালো থাকার ‘টনিক’ হাসি ও পজিটিভিটি, তাই জীবনের ‘হারজিত’ খেলায় তিনি সবসময় ‘জয়ী’। বাঙালির ‘একান্ত আপন’ অভিনেত্রী শকুন্তলা বড়ুয়ার জন্মদিন আজ। দুই মেয়ে আসতে পারেননি তাঁর কাছে, বাইরে বেরোনোর উপায় নেই। কিন্তু জীবন একটাই তাই ভালোবাসায়, আনন্দে বাড়িতেই ৭৪ তম জন্মদিন উদযাপন করলেন শকুন্তলা বড়ুয়া এবং খাসখবরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জানালেন মনের কথা।

প্রশ্ন: আগের বছর থেকে আমরা কাছের মানুষদের নিয়ে হইহই করে জন্মদিন উদযাপন করতে পারছিনা, আপনি কেমন ভাবে কাটাচ্ছেন এই বিশেষ দিন?
শকুন্তলা বড়ুয়া: আমি খুব ঈশ্বর বিশ্বাসী, ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকলে জীবনে প্রতিটা মুহূর্ত মানুষ নিজেই তৈরি করে নেয়, আমি যখন জানি সামনের জল আছে ডুবে যেতে পারি, তখন সেখানে কেন যাব? হয়তো বালিতে পরে থাকা ঝিনুকের মধ্যে মুক্তা পেতে পারি। তাই বিপদ ডেকে না এনেই বাড়িতে থেকেই আনন্দ করার চেষ্টা করছি। আমার দুই মেয়ে একজন লন্ডনে একজন মুম্বাইতে। দুজনেই সমানে ফোন করছে, বারবার বলছে এক পা ও যেন বাইরে না রাখি। তবে আমার এক বোন আমার কাছে থাকে আমরা সব সময় একসঙ্গে থাকি গল্প করি রান্না করি লুডু খেলি, তাই আজও রান্না গল্প সব নিয়ে এভাবেই কাটাচ্ছি।

- Advertisement -

প্রশ্ন: সময়ের সঙ্গে মানিয়ে কিভাবে ভালো থাকা যায়, এইসময় সেটাই বোধহয় আমাদের সকলকে শিখতে হবে।
শকুন্তলা বড়ুয়া: একদম একদম, সকলের শেখা উচিত। কারণে অকারণে সব সময় হাসতে হয়। আমিতো বাড়িতে সকলের সঙ্গে মজা করি, তাই হাসাহাসিটা চলতেই থাকে, এখন বাড়িতে এভাবেই ভালো থাকতে হবে আমাদের।

প্রশ্ন: আজকে দুই বোন মিলে জন্মদিনে স্পেশাল কোন রান্না করলেন বাড়িতে?
শকুন্তলা বড়ুয়া: সকালবেলা বোন আমায় ধোসা বানিয়ে দিল, আর আমাদের সঙ্গে দুজন মেয়ে থাকেন, ওরা এতো ভালো কি বলবো, ঠিক মনে করে আমাদের জন্য নাইটি শাওয়ার জেল লুফা নেলপালিশ কাজল লিপস্টিক কিনে এনেছে, আমিতো অবাক। তারপর বলছে, তোমার হ্যাপি বার্থডে তাই এগুলো তোমার। সবাই মিলে দুপুরে রান্না করলাম, আমি বোয়াল মাছ রান্না করলাম এছাড়াও এঁচোড়ের ডালনা মোচার ঘন্ট নানান রকম রান্না হয়েছে, সঙ্গে আইসক্রিম (হাসি)। বিকেলে বোন আমার পছন্দ মত কেএফসি চিকেন, মুজ্ সব অর্ডার দিয়েছে (হাসি)।

প্রশ্ন: তাহলে তো জমজমাট আয়োজন, জন্মদিনের কেক আসছে বাড়িতে?
শকুন্তলা বড়ুয়া: না কেক কাটা হয় না, আমাদের দুজনেরই সুগারের সমস্যা, তাই অন্তত কেকটা অ্যভয়েড করছি আমরা।

প্রশ্ন: এত কিছুর মাঝেও জন্মদিন এলেই ছোটবেলার কোন মুহূর্ত গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে?
শকুন্তলা বড়ুয়া: মেডিকেল কলেজে আমার বাবা ছিলেন, তখন আমি স্কুলে পড়ি, সেই সময়ের ছবিও আছে। এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে, টেবিলের মাঝে বিরাট থালা ভর্তি খাবার আবার চারপাশে বাটি সাজিয়ে নানান ধরনের পদ মা রান্না করে খাওয়াতেন। একটা মাছের মুড়ো থাকতো। আমি মাছের কাঁটা মুড়ো খেতে খুব ভালোবাসি, সেইটা খুব মনে পড়ে। আজ মা ও নেই বাবা ও নেই। তবে সেই সব সুখের স্মৃতি তো আছে, সেটাই যথেষ্ট।

প্রশ্ন: এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালো সময়ের চেয়ে খারাপ সময় কি বেশি আঁকড়ে ধরে থাকি আমরা, আপনার মতো করে ভালো ভাবার জায়গাটা কমে যাচ্ছে।
শকুন্তলা বড়ুয়া: ঠিক, তবে আমি খুব পজিটিভ, নেগেটিভ কথা মনেও আনি না। এবং সবাইকে বলি পজিটিভ চিন্তা করো। কারণ তুমি যেটা ভাববে সেটাই হবে।

প্রশ্ন: জন্মদিনে ব্যস্ততার মধ্যেও এতটা সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এবছর তাহলে দর্শকেরা নিশ্চয়ই আপনার থেকে পজিটিভিটি ‘টনিক’ পাবেন।
শকুন্তলা বড়ুয়া: নিশ্চয়ই, আমিও খুব আশা করে আছি। টনিক ছবিটার জন্য অপেক্ষা করে আছি। তোমরা সকলে ভালো থেকো সুস্থ থেকো।