দুর্নীতির কালি ঘোচাতে ফের শিক্ষক নিয়োগের ভাবনা রাজ্যের

0
17

কলকাতা: দীর্ঘ সাত বছর সেই অর্থে হয়নি কোনও নিয়োগ৷ উল্টে বেনিয়মের জটে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গিয়েছে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া৷ শুধু শিক্ষক নিয়োগই নয়, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি নিয়োগের ক্ষেত্রেও সামনে এসেছে বেনিয়মের অভিযোগ৷ এমনকি বদলির ক্ষেত্রেও সামনে এসেছে ঘুষের অভিযোগ৷ অন্যদিকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর অভাবে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের একাংশ স্কুল কার্যত ধুঁকতে বসেছে৷

এহেন পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হল রাজ্য৷ স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, এসএসসি এবং পিএসসির মাধ্যমে ফের স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে রাজ্য৷ ইতিমধ্যে প্রশাসনের অন্দরে সেই তৎপরতাও শুরু হয়েছে৷ যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুর্নীতির দায়ে যেভাবে শিক্ষা ক্ষেত্র কালিমালিপ্ত হয়েছে তাতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে রাজ্যের এমন উদ্যোগ৷

বস্তুত, শিক্ষক নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে কার্যত জমেছে রাশি রাশি মামলা৷ ইতিমধ্যেই একাধিক মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ জারি করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন সিঙ্গলবেঞ্চের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়৷ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে স্বয়ং এসএসসি-র উপদেষ্টা কমিটির একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে৷ প্রয়োজনে জেলে ঢোকানোর পরামর্শও দেন বিচারপতি৷ এমনকি নাম জড়ায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী (বর্তমানে শিল্পমন্ত্রী) পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও৷ প্রয়োজনে তাঁকেও হেফাজতে নিয়ে সিবিআই জেরা করতে পারে বলে মত দেন বিচারপতি৷ ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে আপাতত মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওই নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে৷ সূত্রের খবর, তার আগেই স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে রাজ্য৷

শিক্ষা ভবন সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের পর থেকে সেই অর্থে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতেও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি৷ মামলার জেরে থমকে রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া৷ শুধু শিক্ষক নয়, শূন্য রয়েছে শিক্ষাকর্মীদের একাংশ পদও৷ এহেন পরিস্থিতিতে শূন্যস্থান পূরণ করতে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে রাজ্য৷ তাতে কিছুটা হলেও দুর্নীতির কালি মুছে স্বচ্ছতা ফেরানো সম্ভব হবে বলেই মত ওই মহলের৷

আরও পড়ুন: জোড়া-ফলায় শান দিচ্ছে সিবিআই, এবার কি করবেন Anubrata Mandal