স্কুল খোলার দাবিতে আন্দোলনে নামতে পারেন পড়ুয়ারা, ইঙ্গিত দিল জঙ্গলমহল

0
62
প্রতিকী ছবি

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বড়সড় অঘটন না ঘটলে এবার স্কুল খোলার দাবিতে আন্দোলনে নামতে পারেন পড়ুয়ারা৷ মঙ্গলবার তেমনই আভাস মিলল জঙ্গলমহলে৷ তাপদাহের কারণ দেখিয়ে আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্রীষ্মের ছুটি বাড়ানোর নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। আর এই সিদ্ধান্তে শিক্ষা বিরোধী চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। এমনকি বর্ধিত এই ছুটিতে খুশী নয় পড়ুয়ারাদের একাংশও।

স্কুল পড়ুয়া অনিকেত কর্মকার, সৌমিক পানরা সরাসরি বলেছেন, ‘‘এতদিন স্কুল বন্ধে আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আমরা আর ছুটি চাই না। যেকোনওভাবেই হোক অতি দ্রুত পঠন পাঠন শুরু হোক৷ আমরা এটাই চাইছি৷’’ বস্তুত, এপ্রিলের মাঝামাঝি প্রবল তাপদাহের কারণে এবার গরমের ছুটি নির্ধারিত সময়ের ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে আনা হয়েছিল৷ ২ মে থেকে টানা ১৫ জুন স্কুল ছুটির ঘোষণা করা হয়েছিল৷

- Advertisement -

সাম্প্রতিক তাপদাহ বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সেই ছুটিকে আরও ১১ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ যদিও হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মেনে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ইনিংস শুরু করতে পারে চলতি মরসুমের বর্ষা৷ সেদিকে খেয়াল রেখেই পড়ুয়াদের দাবি, করোনার কারণে দীর্ঘ দু’বছর পড়াশোনা বন্ধ ছিল৷ এই অবস্থায় অকারণে ৪৫দিনের ছুটিকে আর বাড়ানোর কোনও অর্থ হয় না৷ তাই ১৭ জুন থেকে ফের স্কুল খোলা হোক৷ নতুবা আন্দোলনে নামারও ইঙ্গিত দিয়েছেন পড়ুয়াদের একাংশ৷

এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে এনেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডা: সুভাষ সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘‘মাননীয়ার খামখেয়ালীপনায় শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ হয়ে যাবে। উনি এই ব্যবস্থা শেষ না করে ছাড়বেন না। কোভিডের কারণে এমনিতেই দীর্ঘদিন ছুটি ছিল। এমনকি এরাজ্যে ড্রপ আউটের সংখ্যা বেড়েছে।’’ রাজ্যে যখন সেভাবে গরম পড়েনি, উত্তর বঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে তখন কেন ছুটি সেনিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অকারণে স্কুলের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হল বলে মনে করেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদক দীনবন্ধু ভূষণও৷ তাঁর দাবি, ‘‘শিক্ষাকে বেসরকারিকরণের পথে নিয়ে যেতে চাইছে রাজ্য সরকার। তাই এই বারবার ছুটি। সকালের দিকে কয়েক ঘন্টা স্কুল খোলা থাকলে এমন কিছু ক্ষতি হতো না।’’ খানিক থেমে কটাক্ষের সুরে যোগ করেছেন, ‘‘গ্রামের সব ছাত্রছাত্রীরা এসিতে থাকে না। দরকারে শিক্ষা বর্ষ শুরুর সময় বদলানো হোক। শিক্ষকরাও এই বর্ধিত ছুটি চাইছেন না। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। সরকারী স্কুলগুলিকে দূর্বল করার চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি৷’’

আরও পড়ুন: একের পর এক সিভিক ভলেন্টিয়ার খুন ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বাড়ছে চাঞ্চল্য