বিশ্ববিদ্যালয়ের পিয়ন থেকে সেখানেই আজ প্রফেসর!

0
64

অর্ণব বিশ্বাস,কলকাতা: সম্প্রতি বিহারের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছেন ৪২ বছরের কমলকিশোর মণ্ডল। কয়েকদিন আগেও যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই টেবলে টেবলে চা-জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন।

আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতই কমল কিশোর কিন্তু জীবনে লড়াইয়ে তিনি তার এই সাফল্যে প্রমাণ করলেন ইচ্ছে থাকলে সব সম্ভব কেবল উদ্দেশ্য স্থির রাখতে হবে।

- Advertisement -

আরও পড়ুন:বিমানে বোমাতঙ্ক, দিল্লি বিমানবন্দরে জারি High Alert

পারিবারিক অনটনের কারণ স্নাতক পড়াশোনা ছেড়ে কাজে ঢুকতে হয়েছিল। কমলকিশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিওনের চাকরি করছেন ২২ বছর বয়স থেকে।

বাবার চায়ের দোকান ছিল যেটি তিনি এখনও চালান। সেই সময়ে বাবা হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পাশ করে নাইট গার্ডের কাজ করতেন সঙ্গে দোকানও সামলে। তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এরপরই পিওনের চাকরির প্রস্তাব আসে।

চাকরিটা নিয়েও নেন কমল। আপাতত তিনি এমএ, পিএইচডি। কঠোর অধ্যাপনায় গত চার বছরে গবেষণা শেষ করে, নেট পরীক্ষায় পাশ করে নিজের  পুরনো কর্মক্ষেত্রে তিনি অধ্যাপক হিসেবে ফিরে এসেছেন।

সৎ ইচ্ছে থাকলে জীবনের যে কোন প্রতিকূল মুহূর্তকে কাটিয়ে এক সময় যে সাফল্য আসে তারই উদাহরণ কমলকিশোর।

২০১৩ সালে পিএইচডির পড়াশোনা শুরু করা কমল প্রফেসরদের টেবলে চা-জল-খাতা-বই পৌঁছে দিত। ছাত্র-ছাত্রীদের দেখে তাঁরও পড়াশোনা করার ইচ্ছা হত।

শেষে পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এমএ পড়া শুরুও করে দেন। এমএ শেষ করে পিএইচডির গবেষণা শুরু করেন।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে অনেক সময় লেগেছিল তাঁর। কিন্তু হাল ছাড়েননি কমল কিশোর। এরই মাঝে নেটের প্রস্তুতি শুরু করে দেন কমল।

নেট পাশ করার পর ২০২০ সালে আচমকাই একটা সুযোগ আসে। তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চারটি শূন্য পদে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগ এমন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হয় বিহার স্টেট ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে।

সে অনুযায়ী তিনি ইন্টারভিউ দেন সম্প্রতি কমলকিশোর জানতে পারেন তিনি যে বিভাগে পিওনের চাকরি করতেন সেখানেই অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দিতে চলেছেন। এ যেন তার কঠোর পরিশ্রমের আনন্দ মধুর ফল।

কমলকিশোর সম্প্রতি এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘‘কষ্ট করতে হয়নি তা নয়। কিন্তু আমি আমার দারিদ্রকে আমার বিদ্যার্জনের পথে বাধা হয়ে আসতে দিইনি। সকালে ক্লাস করে দুপুরে কাজ করতাম। রাতে বাড়ি ফিরেও চলত পড়াশোনা।’’

কমল কিশোরকে নিয়ে গর্বিত প্রফেসাররাও। যারা কমলকে কাছ থেকে দেখেছে তার লড়াই তাকে প্রত্যক্ষ করেছে তাদের কাছে তিনি একটা অনুপ্রেরণা।