নেটিজেনদের দাবি, বিজয়ার আগে “শুভ” শব্দটি যায় না, সত্যিই কি বিজয়া অশুভ

0
39

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: মহালয়া শুভ নাকি অশুভ, এ তর্কের মীমাংসা হয়নি। এরই মধ্যে নয়া তর্ক হাজির। বাঙালি চিরকাল দুর্গাপুজো মিটলে বিজয়া পালন করে এসেছে। কখনও এ প্রশ্ন কেউ তোলেনি যে বিজয়া কি সত্যিই শুভ। এবারে উঠছে সেই প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: বনেদি বাড়ির প্রতিমায় সিংহের মুখ ঘোড়ার মত কেন

- Advertisement -

বেশ কিছু নেটাগরিকের দাবি, যেহেতু বিজয়া দশমীর দিনে মা দুর্গা সপরিবারে কৈলাসে নিজ স্বামীর ঘরে ফিরে যান, তাই বিজয়া কখনওই শুভ হতে পারে না। সত্যিই কি তাই? হ্যাঁ, উমা কৈলাসে ফিরে যাওয়ার কারণে এই দিনেই উৎসবের ইতি, এ কথা ঠিকই। তা বলে তাকে কি অশুভ বলা চলে?

বিষয়টি জলের মত স্পষ্ট হয়ে যাবে যদি বিজয়া আসলে কী, সে বিষয়টিতে চোখ রাখা হয়। দুর্গাপুজো শেষে একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় বাঙালির অন্যতম রেওয়াজ। এ সময় আমরা গুরুজনদের প্রণাম এবং সমবয়সীদের কোলাকুলি আর তারপর তাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। কিন্তু এই বিজয়ার ধারণাটি কোথা থেকে এল?

মা দুর্গার দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। এঁরা দৃশ্য এবং অদৃশ্যভাবে সর্বদা দেবীর দু পাশে থাকেন। এঁদের মধ্যে বিজয়া হলেন হিন্দু পুরাণে বর্ণিত ৬৪ জন যোগিনীর অন্যতম। যে কারণে তাঁর গাত্রবর্ণ সবুজ। কিন্তু এই বিজয়ার থেকে বিজয়া দশমীর ধারণাটি আসেনি। তাহলে?

জবাবটি লুকিয়ে রয়েছে রামায়ণে। আমরা জানি, রাবণ বধের নিমিত্ত শ্রীরামচন্দ্রই শরতে দেবীর অকালবোধন করেছিলেন। দশমীর দিনে তিনি নিজের সংকল্প পূরণ করে বিজয়প্রাপ্ত হন। পন্ডিতরা বলেন, এই বিজয় থেকেই এসেছে “বিজয়া” কথাটি। দশমীতে রাবণ বধের পর বিজয় উৎসব পালন করেছিলেন রাম-লক্ষ্মণ, তাঁরা পুনরায় মিলিত হন সীতাদেবীর সঙ্গে। সে থেকেই বিজয়ার সময় প্রিয়জনদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধারণাটির উদ্ভব।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

হিন্দু পুরাণে প্রক্ষেপ অপরিসীম। ফলে বিজয়া সংক্রান্ত একটি ভিন্ন মতও রয়েছে। রামের রাবণ বধের বিজয় দিবস নয়, বিজয়ার ধারণাটি এসেছে বরং দেবরাজ ইন্দ্র পালিত বিজয় দিবস থেকে। এই মত অনুসারে, ঋষি দধীচির অস্থি দ্বারা নির্মিত বজ্র দিয়ে বৃত্রাসুরকে ইন্দ্র এই তিথিতেই বিনাশ করেছিলেন। এবং সে সময় স্বয়ং বিষ্ণু ছিলেন ইন্দ্রের রথের সারথি।

কাজেই, বিজয়া যে কোনও মতেই অশুভ নয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিছু অপরিপক্ক বুদ্ধিজীবী হাতে একটা মোবাইল আর সস্তার কিছু ডেটা পেয়ে যা খুশি রটিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের হাতে কার্যত আর কোনও কাজ নেই। তাই এসব করে বেড়ায়। এদের কথায় পাত্তা দেওয়ার বিশেষ কারণ নেই। কারণ, বিজয়া সব সময়ই শুভ। তা না হলে “শুভ বিজয়া” শব্দটির-ই উৎপত্তি ঘটত না। কিংবা অনেক আগে বিদ্যাসাগর-বিবেকানন্দরা-ই এর প্রতিবাদ জানাতেন।