পরিত্যক্ত ছোলা বিক্রি করে জমিদার দু’ভাই, অষ্টমীতে বিতরণ করতেন ৪০ মণ মিষ্টি

দুর্গাপুজোর নামে উড়ু উড়ু করে ওঠে যে কোনও বাঙালির মন। তবে কেউ কেউ পুজোর চারটে দিন একটু অন্যরকমভাবেও কাটাতে পছন্দ করেন। তারা ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের বাঙালিয়ানাটাও চান। এইসকল ব্যক্তিবর্গের জন্য খাস খবরের তরফে থাকছে বাংলার কিছু অভিজাত বাড়ীর ঠিকানা।

0
51

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: আশ্চর্য এক রেওয়াজ ছিল পালচৌধুরী পরিবারের (Ranaghat Pal Choudhury Bari) দুর্গাপুজোয়। বোধনের আগে বাড়ির বড়কর্তা খালি পায়ে হালালপুরের সরখেল বাড়ীতে গিয়ে পুজোর সামগ্রী পৌঁছে দিতেন। একইসঙ্গে ব্রাহ্মণ পরিবারটির কাছ চেয়ে নিতেন দুর্গাপুজো করার অনুমতি। সরখেলরা অনুমতি দিলে তবেই পুজো হত।

এ ঘটনাই প্রমাণ করে, ব্রাহ্মণদের কতখানি শ্রদ্ধাভক্তি করতেন পালচৌধুরীরা। আজও করে থাকেন। একইসঙ্গে পুজোর উপাচারেও অগাধ নিষ্ঠা তাঁদের। এখানে পাঁচ খিলানযুক্ত এক ঠাকুরদালানে পূজিতা হন একচালার প্রতিমা। ঘোড়ার মত সিংহের মুখ আর অসুর গাঢ় সবুজ রঙের। একসময় পশুবলির রেওয়াজ থাকলেও এখন বলি দেওয়া হয় শুধু চালকুমড়ো। দুশো বছরের-ও বেশি পুরনো এই পুজোয় অষ্টমীর দিন নাকি ৪০ মণ মিষ্টান্ন-ও বিলি করা হত এককালে।

- Advertisement -

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

এই পুজো শুরু হল কীভাবে? শম্ভু পান্তি এবং কৃষ্ণ পান্তি ছিলেন দুই ভাই। এঁরা আড়ংঘাটার যুগলকিশোর মন্দিরের ফেলা দেওয়া ছোলা বিক্রি করে সে সময় হাজার হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। তারপর সেই টাকাতেই নদীয়ার রাজার থেকে ১৭৯৯ সাল নাগাদ রাণাঘাটের জমিদারি কিনে নেন। জানা যায়, রাজা-ই দু’ভাইকে পালচৌধুরী উপাধি প্রদান করেছিলেন। ক্রমে দুই ভাইয়ের জন্য দুটি আলাদা বাটী তৈরী হয়।

Ranaghat Pal Choudhury Bari

দুই পালচৌধুরী বাড়িতেই মহা ধুমধামে পুজো হত। যদিও এখন একটিতে বন্ধ; অন্যটিতে টিমটিম করে জ্বলে পুজোর প্রদীপ। আসলে প্রোমোটারদের দৌড়াত্ম্যে আজ টিকে থাকাই বড় বালাই। প্রাচীন ভবনের বেশিরভাগ অংশই কিছু কালের গর্ভে আর কিছু প্রোমোটারের গর্ভে গিয়েছে। যা টিকে আছে, তার মধ্যে রয়েছে কিছু অ্যান্টিক বাসনকোসন, দুটো মরচে ধরা কামান, ঘরের দেওয়ালে ট্যাক্সিডার্মি করা কিছু পশু, অপূর্ব টেরাকোটার দুটো শিবমন্দির আর ওই পাঁচ খিলানযুক্ত ঠাকুরদালান। যদিও এ বাড়ির একটি অন্য তাৎপর্য-ও রয়েছে। হলিউড অভিনেত্রী তথা পরিচালিকা তথা চিত্রগ্রাহিকা ইন্দ্রানী পালচৌধুরী এ বাড়ির-ই (Ranaghat Pal Choudhury Bari) তনয়া।

আরও পড়ুন: এ বাড়িতে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন স্বয়ং বিদ্যাসাগর, পুজোতেও রয়েছে চমক

কীভাবে যেতে হবে: ট্রেনে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। রানাঘাট স্টেশনে নেমে সেখান থেকে টোটো বা রিক্সা বড়বাজার মাঠ (হ্যাপি ক্লাব)। এই মাঠের বিপরীতেই পালচৌধুরীদের ভগ্ন অট্টালিকা। রাণাঘাট কলকাতা থেকে ১০০ কিলোমিটারের মত। দিনের দিনই ফিরে আসতে পারবেন। মেইন লাইনে কৃষ্ণনগর সিটি লোক্যাল, রাণাঘাট লোক্যাল, গেদে লোক্যাল, শান্তিপুর লোক্যাল এবং আরো দু-একটি গাড়ি প্রতিনিয়ত রাণাঘাটে যাতায়াত করে। তবে সরকপথে যেতে চাইলেও অসুবিধা নেই। কৃষ্ণনগর রোড ধরে সোজা পৌঁছে যান রাণাঘাট।