সুদীপার দুর্গাপুজোয় নিরামিষ মাংস

0
50

অনিন্দিতা কর ও অনন্যা ঘোষ: আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তারপরেই বাঙালিরা মেতে উঠবে তাদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোর আনন্দে। দেবী দুর্গাকে ঘরের মেয়ে করে বরণ করে নেবেন প্রত্যেক পূজা আয়োজকরা। টলিউডের চট্টপাধ্যায় বাড়ির পুজো মুখে মুখে প্রচারিত।

প্রতিবারই সেখানে ভিড় জমান টলি-সেলেবরা। যদিও ২০২০ সালে কোভিড চিরাচরিত চিত্রে একটু বদল এনেছিল, তবে সমস্ত রীতি মেনে যদিও ২০২০ সালে ছন্দ কিছুটা কেটেছিল। কোভিড বিধি মেনে বাড়ির লোক নিয়েই সারা হয়েছিল দুর্গার আরাধনা। তবে, এবারে জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে রথযাত্রায় সাড়া হয়ে গিয়েছে কাঠামো পুজো। পূজোর সাতটা দিন কেমন কাটে সুদীপার ?

- Advertisement -

খাস খবর’কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন,” আমাদের পূজো পাঁচ দিনে নয় সাত দিনে হয়। রথযাত্রার দিন কাঠামো পূজোর পর ষষ্ঠীতে বোধনের ঘট বসে তারপর নবপত্রিকা স্নান। গঙ্গার জল ঘড়ায় করে এনে বাড়ির ছোট ছাদে স্নান করানো হয় নবপত্রিকাকে।

এই নিয়ম চট্টপাধ্যায় বাড়ির নতুন নিয়ম। তিন মতে চট্টপাধ্যায় বাড়িতে পূজো হয়, পঞ্চমী থেকে সপ্তমীতে বৈষ্ণব মতে, সপ্তমীতে শৈব মতে কথিত আছে এই দিনে মহাদেব এক দিনের জন্য শ্বশুরবাড়ি আসেন, তাই শৈব মতে পুজো। তারপর শাক্ত মতে পরিশেষে হয় তন্ত্র মতে পুজো। আমাদের এই বিশেষ রীতির নাম ত্রিধারা।

তবে এখানেই শেষ নয়, চট্টপাধ্যায় বাড়ির পুজোর বিশেষত্বে আছে বিশেষ রকমের ‘ভোগ’। পুজোয় একের দিন একেক রকম চালের ভোগ দেওয়া হয় মাকে। চট্টপাধ্যায় বাড়ির মা ঢাকা বিক্রমপুরের, তাই পুজোর ভোগে চালের বিশেষত্ব থাকে। ঢাকা থেকে চিনিগুড়া চাল আর গাওয়া ঘি আসে। অষ্টমীতে চিনিগুড়া চালে ভোগ খায় মা, নবমীতে ভোগ তৈরি হয় তুলাইপাঞ্জি চাল দিয়ে।

দশমীতে দেবী পান্তা খান দশকাঠি সেদ্ধ চাল দিয়ে। সেই সঙ্গে এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ নিরামিষ মাংস। সাধারনত আমরা মাংস আমিষ বলেই জেনে থাকি কিন্তু মায়ের ভোগের ক্ষেত্রে পেঁয়াজ-রুসুন ছাড়া মাংস রান্না করা হয়। নবমীতে মহাভোগে এই নিরামিষ মাংস দেওয়া হয়, সেই সঙ্গে থাকে সাত-আট রকমের মাছ, সুক্তো, পায়েস।

নবমীতে যদি পদ্মার ইলিশ ভোগ দেওয়া তাহলে দশমীতে থাকে গঙ্গার ইলিশ খাইয়ে মাকে বিদায় জানানো হয়। বাড়ির ছেলে মেয়েরা মুখে কাপড় বেঁধে মায়ের সেই ভোগ রান্না করেন। প্রতিবছর মায়ের ভোগের রান্না সবার সঙ্গে মিলে নিজে হাতেই করে থাকেন সুদীপা। মোট কথা চট্টপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোর চণ্ডীপাঠ থেকে জুতো সেলাই নিজে হাতেই করে থাকেন অভিনেত্রী।

আবার মায়ের সাজও থাকে দেখার মতন। প্রতি বছর গয়না গড়িয়ে দেওয়া হয় মা’কে। আর সেটা সম্পূর্ণ কারিগরের হাতে গড়া, মেশিনে তৈরি গয়না দেওয়া হয় না মা’কে। মায়ের ইচ্ছামতই মাকে গয়না পরানো হয়। বেনারসি পরে মা আসেন যাওয়ার সময় ওই শাড়ির উপরেই একটি চওড়া লাল পাড়ের শাড়ি জড়িয়ে দেওয়া হয় মাকে বিদায় জানানো হয়।

সরস্বতী- লক্ষ্মীর জন্যও ছোট্ট বেনারসি বানানো হয়। পূজোর সাতটা দিন বাড়ি থেকে কোত্থাও বেরোন না সুদীপা, পুরো পুজোটা দায়িত্ব সহকারে করেন স্বামী অগ্নিদেব। প্রতি বছর দশমীর বরণের পরে মায়ের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে অগ্নিদেব জোড়হাত করে মাকে পরের বছরের আসার আমন্ত্রণ জানান। বলেন,‘‘আবার এসো মা।’’ বিজয়ার পড়েই ঠাকুর দর্শনে বাড়ি থেকে বেরোন সুদীপা। পুজোর সাতটা দিন লাইট,ক্যামেরা,অ্যাকশনের মধ্যে নিজেকে রাখেন না অভিনেত্রী।