দুর্গাপ্রতিমাকে নয়, এখানে পুজোর চারদিন আরাধনা করা হয় মা সারদাকে

0
36

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: স্বামীজি জানতেন, মা সারদা স্বয়ং-ই প্রকৃতি। তাই সুদূর আমেরিকা থেকে গুরুভাই স্বামী শিবানন্দকে চিঠিতে বলেছিলেন, “দাদাগো, রাগ কোরো না। মা ঠাকুরানি কী বস্তু, তা তোমরা কেউ এখনো বুঝতে পারনি। রামকৃষ্ণ পরমহংস চলে যান, তাতে ক্ষতি নেই। মা গেলেই সর্বনাশ! তোমাদের ‘জ্যান্ত দুর্গা’র পুজো কাকে বলে, দেখিয়ে ছাড়ব!”

স্বামীজী দেখিয়েই ছাড়েন। ১৯০১ নাগাদ বেলুড় মঠে দুর্গাপুজো আরম্ভ হয়। পুজোর সংকল্প তো শ্রীমায়ের নামে হয়ই। উপরন্তু মহাষ্টমীর দিন ১০৮ টি পদ্ম মায়ের চরণে উৎসর্গ করেন তাঁর প্রিয় “নরেন”। এই রীতি আজও মেনে চলেন রামকৃষ্ণ মিশনের সাধুরা। প্রতিটি মঠে মায়ের নামেই পুজোর সংকল্প হয়। তবু এরই মধ্যে স্বাতন্ত্র্য খুঁজে নিয়েছে বরাহনগর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম। সেখানে দুর্গারূপী মৃন্ময়ী প্রতিমাকে নয়, পুজো করা হয় মা সারদার মূর্তিকে। কেন এই রীতি?

- Advertisement -

আরও পড়ুন: সারদা মায়ের নির্দেশেই বেলুড় মঠে শুরু হয় দুর্গাপুজো

আশ্রমের মহারাজদের কথায় পরিষ্কার হল বিষয়টি। একসময় এ স্থানেও পূজিতা হতেন দেবী দশভূজা। কিন্তু মায়ের নিরঞ্জনে আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী সত্যানন্দের মন বিষাদে ভরে যাওয়ায় তিনি ঠিক করেন বিসর্জনের প্রথা তুলে দেবেন। কিন্তু তাই বা কেমন করে সম্ভব? এ যে ঘোর শাস্ত্রবিরোধী! তখনই মহারাজের মাথায় আসে শ্রীশ্রীমাকে দুর্গারূপে পুজো করার ভাবনাটি। সাল ১৯৪৫। সেই থেকে মাকেই পুজোর চারদিন বিশেষ সাজে সজ্জিত করে আরাধনা করা হয়।

সপ্তমী মা থাকেন রাজ রাজেশ্বরীর বেশে। অষ্টমীতে যোগিনীরূপিনী। এরপর নবমীতে তিনি কন্যা। এদিন তাঁকে কুমারীরূপে পুজো করা হয়। আর সবশেষে দশমীতে তাঁর রূপ ষোড়শী। বলাই বাহুল্য, এ আশ্রমে দেবীর বিসর্জন হয়না। কেবল পুজোর ঘটটিকে জলে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর মায়ের ছবি এক ঘর থেকে চলে যায় অন্য ঘরে। ঠাকুর বলতেন, “ও সারদা— জগতকে সার দান করতে এসেছে।” এই কথা মাথায় রেখে লক্ষ্মী এবং সরস্বতীরূপেও শ্রীমায়ের প্রতিকৃতিকে পুজো করা হয় এই আশ্রমে।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

উল্লেখ্য, বরাহনগর ছাড়াও আরও এক জায়গায় মাকে পুজো করার রীতি চলে আসছে। আমতার খড়িয়পে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ প্রেমবিহার। এখানে গত ২৪ বছর ধরে দশভূজা দুর্গার পাশাপাশি দ্বিভূজা সারদা পুজো পেয়ে থাকেন।