সারদা মায়ের নির্দেশেই বেলুড় মঠে শুরু হয় দুর্গাপুজো

0
51

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: মা সারদা সকলের মা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, মায়ের মাহাত্ম্য প্রথমে অনেকেই বুঝতে পারেননি। এমনকি এর মধ্যে ছিলেন খোদ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কিছু সন্ন্যাসী ভক্ত-ও। তাঁরা চিনতে পারেননি মাকে। স্বামী বিবেকানন্দ যদিও এই দলে ছিলেন না।

আরও পড়ুন: দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয়া দেবী তারার আটটি রূপ, জানেন কি

- Advertisement -

১৯০১ সালে স্বামীজি বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। কথিত, স্বয়ং মা সারদা-ই স্বামীজিকে বেলুড় মঠের পুজো শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্বামীজি মাকে বলতেন, “জ্যান্ত দুর্গা”। এই প্রসঙ্গে সুদূর আমেরিকা থেকে গুরুভাই স্বামী শিবানন্দকে অতীতে একটি চিঠি পর্যন্ত দেন স্বামীজি। যে চিঠিতে লেখা ছিল— “দাদাগো, রাগ কোরো না। মাতা ঠাকুরানি কী বস্তু, তা তোমরা কেউ এখনো বোঝোনি। রামকৃষ্ণ পরমহংস চলে যান, ক্ষতি নেই। কিন্তু মা গেলেই সর্বনাশ! তোমাদের ‘জ্যান্ত দুর্গা’র পুজো কাকে বলে, দেখাব!”

দেখিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেইসঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন মায়ের নির্দেশ। সন্ধিপুজোর সময় তিনি দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করেন শ্রীমায়ের শ্রীচরণে। এছাড়া পুজোয় সংকল্প করেন মায়ের-ই নামে। সেই ধারা অক্ষুণ্ন আজও। আজও বেলুড় মঠ এবং বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মিশনগুলিতে দুর্গাপুজোর সংকল্প শ্রী শ্রীমা সারদার নামে করা হয়। এর মধ্যে একটি আশ্রমে তো আবার দুর্গাপ্রতিমা নয়, পুজোর চারটে দিন আরাধনা করা হয় শ্রী শ্রীমায়ের প্রতিচ্ছবিকে।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

যাই হোক, আবার ইতিহাসে ফিরি। মজার বিষয় হল, এত সাধের দুর্গাপুজোতেও প্রত্যক্ষ অংশ নিতে পারেননি মায়ের “নরেন”। এত বড় পুজো— এতে কোনও না কোনও ভুল তো কারও না কারও হবেই। তখন স্বামীজি তাঁকে শাসন করবেন। কিন্তু তাতে আবার তাঁর নিজেরও খারাপ লাগবে। এ কথা ভেবে পুজো শুরুর আগেই উদ্বেলিত হয়ে পড়েন স্বামীজি। তাই মায়ের কাছে জ্বর চেয়ে পুজোর চারদিন ঘরে শুয়ে থাকেন স্বামী বিবেকানন্দ। পুজো শেষ হলে মাকে জিজ্ঞেস করে ফের সুস্থ হয়ে যান।