৩৫০ বছরের এই পুজোয় দ্বিভুজা অভয়াকে আরাধনা করা হয়, রয়েছে আরও এক চমক

0
21

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: আর পাঁচটা পুজোর মতই একচালায় দেবী দুর্গার পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, কার্তিক এবং সরস্বতী। কিন্তু তাঁদের পারস্পরিক স্থান বিনিময় হয়েছে। দেবীর ডানপাশে প্রথমে গণেশ, তারপর লক্ষ্মী। বাঁ দিকে প্রথমে কার্তিক, তারপর সরস্বতী। তবে আরও বড় যে বৈশিষ্ট্য, তা হল দেবী আমাদের সুপরিচিতা দশভুজাও নন। দ্বিভুজা দেবী। কারণ এখানে তিনি মহিষাসুরমর্দিনী নন। বরং বরাভয়দাত্রী দেবী অভয়া, যাঁর অস্ত্রশস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া সবাই তাঁকে বাড়ির মেয়ে বলে মনে করেন। সেই মেয়ে, যে কিনা বছর ঘুরে ফিরে আসে পিতৃগৃহে। তারপর চারদিন বাপ-মায়ের আদর খেয়ে আবার ফেরত যায় শ্বশুরালয়ে।

খানাকুলের ময়াল গ্রামের জলকর রায় পরিবার। হ্যাঁ, সেখানে দুর্গাপুজোর ধারণা ঠিক এমনই। যদিও এ ধারণার সূত্রপাত কীভাবে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। আসলে, পুজোর ইতিহাস নিয়েই সন্দিহান শরিকরা। একটি আপেক্ষিক ধারণা অনুযায়ী, এ পুজো ৩৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। প্রচলক হিসেবে বাণীকান্ত রায়ের নাম ভেসে ওঠে। জায়গাটি আদতে দ্বারকেশ্বর নদের বন্দর। নবাবী আমলে সেখানে এই রায় পরিবারের পূর্বপুরুষেরা বিভিন্ন নদীর জলকর আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন। সেই থেকে এই পরিবারটির নাম “জলকর রায়” হয়ে গিয়েছে। এবং এই জলকরের আয় থেকেই পুজো শুরু।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: দুর্গাপ্রতিমাকে নয়, এখানে পুজোর চারদিন আরাধনা করা হয় মা সারদাকে

এমন তথ্যই উঠে এল পরিবারের প্রবীণ সদস্য শ্রী পঙ্কজ কুমার রায় মহাশয়ের কথায়। তাঁর কাছ থেকে জানা গিয়েছে পুজোর আরও কিছু বৈশিষ্ট্য। এই পরিবারের আরাধ্যা হলেন এক অষ্টধাতুর ভুবনেশ্বরী মূর্তি। তাঁকে নাকি পুজোর চারদিন ঠাকুরদালানে অভয়ারূপিনী দেবী দুর্গার পাশে এনে রাখা হয়। দেবী মহিষাসুরমর্দিনী নন। এদিকে প্রতিমার চালচিত্রে মহিষাসুর বধ ছাড়াও রয়েছে একাধিক ঘটনাবলীর ছবি। এ পুজোয় বলি প্রথা রয়েছে, এবং সে প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন পঙ্কজবাবু। বলেন, শুধু পাঁঠাবলিই নয়। পাশাপাশি আখ, চালকুমড়ো ইত্যাদি বলিও হয়ে থাকে।

অর্থাৎ এক কথায়, দেবী সপরিবারে এসে জলকর রায় পরিবারের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। ঠিক যেমন তাঁরা কৈলাসে মিলেমিশে থাকেন। এখানেও তেমনিভাবেই আসেন। অতঃপর দশমীর বিসর্জনে যখন ফিরে যান, এ বাড়ীর রীতি অনুযায়ী শঙ্খচিল দর্শন করে তবে ঠাকুরদালানে ফিরতে হবে।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

অন্ততঃ অতীতে তেমনই নিয়ম ছিল। এখন যেহেতু গ্রামে তেমন একটা শঙ্খচিল দেখা যায় না, তাই পাখিটির নাম স্মরণ করেই কাজ সারতে হচ্ছে। দুর্গাপুজোয় কেবল পরিবারের সদস্যরাই নন, অংশ নেন আশপাশ এলাকার অধিবাসীরাও। এ বাড়ীর প্রাচীন রীতি অনুযায়ী, বিসর্জনের পর সকলে লাল কালি দিয়ে বেলপাতায় মা দুর্গার নাম লিখে থাকেন। এরপর মাথায় শান্তির জল নিয়ে উৎসবের আপাত পরিসমাপ্তি।