রাজ্য সরকারই চোর, রেশন কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি

0
35

বনগাঁ: শিক্ষা, স্বাস্থ্যে কেলেঙ্কারির অভিযোগে উত্তাল রাজ্য৷ গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মতো সামনে এল রেশন কেলেঙ্কারি৷ উড়ে এসে তির খাওয়ার স্টাইলে এমআরডির্লাস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বদের খোলামেলা স্বীকারোক্তি, ‘‘আগে আমরা চুরি করতাম৷ ভাগ দিতে হত খাদ্য দফতরে৷ এখন রাজ্য সরকার নিজেই সরাসরি চুরি করছে৷’’

বনগাঁর এমআরডির্লাস অ্যাসোসিয়েশনের এমন দাবিকে ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ যদিও আগাগোড়া নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে সংগঠনের মহকুমা সভাপতি দিলীপ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘আগে খাদ্য দফতরকে চুরির ভাগ দিয়ে আমরা খেতাম৷ এই ব্যবস্থা চলছিল৷ রেশন ব্যবস্থা মানে চোরের ব্যবসা৷ এখন সেখানে স্বচ্ছতা আনতে গিয়ে রাজ্য সরকার নিজেই চুরি করছে৷ আগে লোক থাকত না, কার্ড থাকতো৷ আর এখন বরাদ্দ মালটাই থাকছে না! এক প্রকল্পের মাল সরকার অন্য প্রকল্পে বিলিয়ে দিচ্ছে৷ চুরি করছে সরকার, আর কিছু না করে চোরের বদনাম কুড়োচ্ছি আমরা৷’’

এমআর ডিলার্সের এমন বিস্ফোরক দাবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনের অন্দরেও৷ পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপির বনগাঁর সাধারণ সম্পাদক দেবদাস মণ্ডল৷ তিনি বলেন, ‘‘চোরেদের স্বর্গরাজ্য চলছে৷ আলিবাবা চল্লিশ চোরের দল হল তৃণমূল৷ এখন সেকথাটাই বলছে এমআর ডিলাররা৷ তারা স্বীকার করছে, চুরি করেছে এবং খাদ্য দফতরকে ভাগ দিয়েছে৷ প্রতিটি কেসের তদন্ত হওয়া দরকার৷ সিবিআই তদন্ত৷ আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, সমস্ত ঘটনার তদন্ত হলে এক ঘণ্টার মধ্যে এই সরকার পড়ে যাবে৷’’

একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘কারণ, কারা অভিযোগ করছে? এমআর ডিলার কারা? যারা সরকারের অঙ্গ ৷ কারণ তারাও আর সহ্য করতে পারছে না৷ কারণ, তাদের ওপর চাপ আসছে. সাধারণ মানুষকে মাল দেওয়ার পরিবর্তে সেটা বাইরে বিক্রি করে নেতাকে টাকা দিতে হবে৷ এই চাপ তারা আর নিতে পারছে না৷ কেন তারা চুরি না করেও চোরের বদনাম সহ্য করবেন৷ তাই বাধ্য হয়ে এবার মুখ খুলেছেন৷’’

যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতা সন্দীপ দেবনাথের দাবি, ‘‘বাম আমলে হাজার হাজার ভুয়ো রেশন কার্ড থাকত ডিলারদের কাছে৷ এখন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে৷ চুরি করতে পারছে না৷ ফলে রাজ্য সরকারকে চোর বলবেই৷’’

অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের বহর নয়৷ রেশন ডিলাররা নিজেরা বলছেন, হ্যাঁ, আমরা চুরি করতাম এবং খাদ্য দফতর তার ভাগ পেত৷ স্বভাবতই, দাবি উঠছে তদন্তের৷ পঞ্জাবের আমআদমি পার্টির মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে কেউ কেউ বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগ ওটা মাত্রই খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও পদ থেকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করেননি আপুের মুখ্যমন্ত্রী, তাহলে বাংলায় উলোট পুরাণ কেন? কেন বারে বারে দুর্নীতি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা? কার স্বার্থে? প্রশ্নটা কিন্তু উঠছে৷

আরও পড়ুন: দল বদলের হিড়িকে শুধু সাধারণ মানুষের নয়, ক্ষতি হচ্ছে রাজনীতিরও