রোদ্দুর রায়ের গানের থার্ড ডিগ্রিতে বিধ্বস্ত পুলিশ থেকে বন্দিরা

0
122

কলকাতা: পুলিশের থার্ড ডিগ্রির কথা শোনা আছে অপরাধীদের৷ কেউ কেউ সেই অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধও! কিন্তু গানের থার্ড ডিগ্রি! হ্যাঁ, থার্ড ডিগ্রিই বটে! বলছেন লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপের দায়িত্বে থাকা একাংশ পুলিশ কর্মীই৷ শুধু পুলিশ নয়, রাত দুপুরে ‘চাঁদ উঠেছিল গগনে’ জাতীয় রোদ্দুরের গানের দাপটে নাস্তানাবুদ লকআপের বন্দিরাও৷

এক পুলিশ কর্মীর কথায়, ‘‘গান তো নয়, যেন বস্তা বস্তা গালিগালাজ৷ প্রতিটি গানের আগে, পরে এবং লাইনের মাঝে মাঝে খিস্তির পর খিস্তি৷ সঙ্গে তেমন হেঁড়ে গলা৷ লোকটার কোনও ক্লান্তি নেই৷ হেঁড়ে গলায় মাঝরাতে টানা ওই সব গান গাইছেন৷ এমনকি কেন তিনি এমন করে রবীন্দ্রনাথকে বিকৃত করলেন, তার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন৷ ফলে অন্য বন্দিরা রাতে ঘুমোতে পারছে না৷ আমরাও শান্তিতে ডিউটি করতে পারছি না!’’

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করার জেরে আপাতত লালবাজারের লকআপে রাত কাটছে রোদ্দুর রায়ের৷ গোয়া থেকে গত ৮ জুন তাকে পাকড়াও করে কলকাতা পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রের খবর, গ্রেফতারির পর প্রথম কয়েকটি দিন কিছুটা ম্রিয়মান ছিলেন এই ইউটিউবার৷ দুটি মামলার একটিতে জামিন পেলেও সম্প্রতি আরেকটি মামলায় পুলিশ হেফাজতেই যেতে হয়েছে তাঁকে৷ এরপর থেকেই রোদ্দুর রায় গানের অত্যাচার শুরু করেছেন বলে জানা যাচ্ছে৷

পুলিশ সূত্রের খবর, রোদ্দুরের গানের ঝাঁঝ এমনই যে আতঙ্কে অন্য সেলে তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে কাকুতি মিনতি শুরু করেছেন বন্দিরা৷ কারণ, কেউই লকআপে রোদ্দুরের সঙ্গে থাকতে চাইছেন না৷ সবাই যে মুখ বুঝে সহ্য করছেন, এমনটাও নয়৷ দু’একজন বন্দি রাতদুপুরে রোদ্দুরের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানালেও ইউটিউবারের রণংদেহী মূর্তির কাছে ধোপে টেকেননি তাঁরা৷ নাজেহাল লালবাজারের পুলিশ কর্তারাও৷ যদিও এই বিষয়ে পুলিশের কোনও কর্তা মুখ খুলতে চাননি৷

আরও পড়ুন: স্বামী কেটে নিয়েছিল হাতের কব্জি, সুস্থ হয়ে নার্সের কাজে যোগ দিলেন রেণু