বিশ্বকাপে লজ্জার ভরাডুবির ৬ মাসের মধ্যে কী করে সম্ভব এক স্বপ্নের বিশ্বজয়

0
20

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: সাল ২০০৭। প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ আর মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া, এক বছরে দুই-ই দেখেছিল ভারতীয় ক্রিকেট। মার্চ মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বিপর্যয়। বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে প্রাথমিক পর্ব থেকে বিদায় রাহুল দ্রাবিড়ের দলের।

আরও পড়ুন: ডিকে, দ্য ফিনিশার

- Advertisement -

ঠিক ৬ মাস পর শুধু সেই অভিশাপ থেকে মুক্তিই নয়, একইসঙ্গে আগামী ভবিষ্যতের নীল নক্সা বুনে দেওয়া। ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ আজকের দিনেই মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় মেন ইন ব্লু। যে সাফল্য শুধু ভারতীয় ক্রিকেটের-ই নয়, একইসঙ্গে বদলে দিয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটের প্যারামিটার।

ধোনি-যুবিরা এই বিশ্বকাপ জিতেছিলেন বলেই ফরম্যাটটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে ভারতীয় ক্রিকেট। এই আসক্তির-ই ফসল ২০০৮ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ওরফে আইপিএল। এরপরেরটুকু ইতিহাস। কিন্তু সে ইতিহাস আজ আমাদের চর্চার বিষয় নয়। বরং যে ইতিহাস আজ চর্চা করতে হবে, তা হল ২০০৭ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৬ মাসের যাত্রার ইতিহাস।

আজ ১৫ বছর পর ভাবতেও যেন কাঁটা দেয় গায়ে। কীভাবে এই অভিশাপের পটভূমিতে রচিত হল রূপকথার ইতিহাস? ৯ জনকে খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা মার্চ মাসে দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েছিলেন। আবার সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিমান-ও ধরেছিলেন। বীরেন্দ্র সহবাগ, রবিন উত্থাপ্পা, মহেন্দ্র সিং ধোনি, যুবরাজ সিং, দীনেশ কার্তিক, অজিত আগরকার হরভজন সিং, ইরফান পাঠান এবং শ্রীশান্ত।

১৫ জনের দলে ৯ জনই মাত্র মাস ছয়েক আগের বিষাক্ত, দগদগে ঘা নিজেদের মানসপটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরপরেও কীভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নেওয়া সম্ভব হল? নিন্দুকের দল অবশ্য এ প্রসঙ্গে একটা অজুহাত খাড়া করতেই পারে। তারা বলতেই পারে, প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ কোনও দলই সিরিয়াসলি নেয়নি। কথাটা সত্যি। সে সময় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ছিল টেস্ট আর ওডিআই ক্রিকেটের মাঝে কার্যত এক ছুটি কাটানো। সে কারণেই ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রতিটি দলই কার্যত পিকনিকে মেজাজে খেলেছিল। মায় ধোনির ভারত-ও।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

কিন্তু যে মুহূর্তে ভারত একটি টুর্নামেন্ট জয়ের দোরগোড়ায়, তখন থেকে কি আর সেই টুর্নামেন্ট পিকনিক থাকে? স্টুয়ার্ট ব্রডকে যুবির ছয় ছক্কা কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রুদ্রপ্রতাপ সিংয়ের ১৩ রানে ৪ উইকেটের মারণ স্পেল পাল্টে দিয়েছিল প্রতিযোগিতার আমেজ। বিশ্ববাসী কার্যত সে সময়-ই প্রথম অনুভব করতে পারে— হ্যাঁ, একটা বিশ্বকাপ হচ্ছে! মাসছয়েক আগের খলনায়করা কিন্তু তখন ঘেঁটে যাননি। বরং এটা প্রমাণ করতে মরিয়া ছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজে যেটা ঘটেছে বরং সেটা ছিল এক ব্যতিক্রমী দুর্ঘটনা। যে ঘটনা আসলে ঘটার, তা ঘটছে এখন।

সত্যিকারের জান-প্রাণ লড়িয়ে খেলেছিলেন ভারতীয়রা। গৌতম গম্ভীরের ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের দলে জায়গা হয়নি। প্রোটিয়াদের দেশে কুড়ি-বিশের আসরে তিনিই টিম ইন্ডিয়ার সর্বোচ্চ স্কোরার, ফাইনালে-ও তাঁর নামের পাশে ৭৫ রান। ইরফান পাঠান ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলে থাকলেও একটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। জো’বার্গের ভারত-পাক ফাইনালে ম্যাচের সেরা তিনিই। তবে সবার মাঝে মধ্যমণি যিনি, তিনি আর কেউ নন। খোদ অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ওডিআই বিশ্বকাপে ধোনির ৩ ম্যাচে অবদান মাত্র ২৯। বিশ্বকাপ থেকে দল ছিটকে যাওয়ার পর রাঁচিতে তাঁর নির্মীয়মাণ বাড়ির ওপর হামলা করে একদল উত্তেজিত জনতা। সেখান থেকে থেকে আসমুদ্র হিমাচলের নেতা হয়ে ওঠা। স্বপ্নের নেতা। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে। আজ সত্যিই ভাবতে কাঁটা দেয় গায়ে। কী করে সম্ভব হল এটা?