ভারতের ইতিহাসে ক্রিকেট চর্চা

0
121

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: ভারতবর্ষে ক্রিকেট নিছক একটি খেলা নয়। বরং ধর্মের আরেক নাম। বলাই বাহুল্য, একদিনে তা হয়নি। আচ্ছা, ভারতে ক্রিকেটের প্রচলন কীভাবে হল? এর পটভূমি-ই বা কী ছিল?

এক গোষ্ঠীর যদিও ধারণা, ক্রিকেটের প্রচলন ভারতবর্ষেরই দোহার অঞ্চলে (অধুনা পাঞ্জাব) খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে। তারপর ধীরে ধীরে পাশ্চাত্যের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সত্যিটা হল, অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধ নাগাদ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে খেলাটি প্রথম এদেশে আসে।

আরও পড়ুন: প্রেসক্লাবের বুকে তরুণ কবিদের নিয়ে নতুন করে পথচলা শুরু “আবার বিজল্পে”র

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

প্রথম প্রথম এটি ছিল বিনোদন মাত্র, উচ্চপদস্থ অফিসাররা মূলত শীতের আলস্য দূর করতেই ছুটির দিনে উইলো হাতে নেমে পড়তেন— সেখান থেকে আজকের ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ধর্মের অন্য নাম! ব্রাজিলে ঠিক যেমনটা ফুটবল।

সিকে নাইডুর নেতৃত্বে ভারত প্রথমবার টেস্ট খেলে ১৯৩২ সালে। ১৯৩৪ থেকে রঞ্জি ট্রফি শুরু। কিন্তু এর বহু আগেই যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল এক-একটি টাউন ক্লাব। ১৮৯৩ -এ আটজন ব্রিটিশ সম্বলিত ভারতীয় দল বিলেত থেকে আগত লর্ড হক একাদশের বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি টেস্ট ম্যাচ খেলেও ফেলে। মাত্র কিছুদিন আগেই (১৮৯২) পার্সিদের একটি দল লর্ড হকদের হারিয়েছিল। মূলতঃ এভাবেই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল ২২ গজের ঝিঁঝিঁট খাম্বাজ।

শুধু সাধারণ মানুষ-ই নয়। বরেণ্য ব্যক্তিত্বরাও মজেছিলেন ক্রিকেট নামক রসে। রবি ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, সত্যজিৎ রায়— কে ছিলেন না এই তালিকায়! এমনই এক বরেণ্য ব্যক্তিত্বের হাত ধরে বাংলায় ক্রিকেটের আগমন। তিনি সারদারঞ্জন রায়। যাঁকে বলা হয়, বাংলা ক্রিকেটের ডব্লিউ জি গ্রেস।

সত্যজিৎ রায়ের বাবার জ্যাঠা ছিলেন এই সারদারঞ্জন। অর্থাৎ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর নিজের দাদা। সে কারণেই এই রায় পরিবারকে বাংলা ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর বললেও কম বলা হয়। উপেন্দ্রকিশোর ক্রিকেট না খেললেও সারদারঞ্জনের বাকি ৩ ভাই মুক্তিদারঞ্জন, কুলদারঞ্জন এবং প্রমোদারঞ্জন যথাক্রমে সেযুগের দুই ডাকসাইটে ব্যাটসম্যান এবং ফাস্টবোলার। এঁদের সন্তান-সন্ততিরাও পরবর্তীতে ক্রিকেট খেলেছেন অন্যদিকে উপেন্দ্রকিশোর ক্রিকেট না খেললেও বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন রণজির জীবনী।