বিশ্বকাপ দূরের কথা, টেনিদা সিরিজে উল্লেখিত পাঁচুগোপাল কাপ জেতাও অসম্ভব

0
67

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: এশিয়া কাপের ধারা জারি ঘরের মাঠেও। ২০০ রানের গণ্ডী টপকে-ও মোহালিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারতে হল অজিদের কাছে। এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স-ই বজায় রাখলেন ভুবনেশ্বর কুমার। এর আগের দুই ম্যাচে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৯তম ওভারে বল করতে এসে যথাক্রমে ১৯ এবং ১৪ রান দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার মোহালিতে দিলেন ১৬ রান।

আরও পড়ুন: ঘরের মাঠে কখনও সিরিজ হারেননি ক্যাপ্টেন রোহিত

- Advertisement -

সব মিলিয়ে নিজের ৪ ওভারে দিলেন ৫২ রান। টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম ৫০ রানের গণ্ডী অতিক্রম করলেন ভুবি। একা রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব দোসর। এশিয়া কাপে অর্শদীপ সিং কেন খেলেছেন, হর্ষল প্যাটেল কেন নয়? এ প্রশ্ন দুদিন আগেও উঠেছে। সেই হর্ষল ৪ ওভারে ৪৯। পাশাপাশি যুজবেন্দ্র চাহাল ৩.২ বলে ৪২ রান। কার্যত এ ৩ জন-ই বৃথা করে দিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া ৩০ বলে ৭১ আর অক্ষর প্যাটেলের ১৭ রানে ৩ উইকেট।

তবু ভুবনেশ্বর-হর্ষলকেই শুধু দোষ দেওয়া চলে? ফাঁক যে একাধিক জায়গায়। আর সে এমনই ফাঁক, যা রাতারাতি ভরাট হওয়া কার্যত অসম্ভব। যে ফিল্ডিংয়ের নমুনা এদিন ভারতীয় ফিল্ডাররা দেখালেন, না বলে উপায় নেই যে এই ফিল্ডিং দিয়ে বিশ্বকাপ তো দূরের কথা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদা সিরিজে’ উল্লেখিত পাঁচুগোপাল কাপ জেতাও অসম্ভব।

প্রথমে মিড উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের হাতের ক্যাচ ফেলেন অক্ষর প্যাটেল। ঠিক পরের ওভারেই এই অক্ষরের বলেই লং অফে রাহুল ফেলেন স্মিথের ক্যাচ। যদিও এরপর খুব বেশি রান দুই ব্যাটার যোগ করতে পারেননি। তবু ম্যাচের ভাগ্য যেন ওখানেই লেখা হয়ে গিয়েছিল। কারণ, এই দুই ক্যাচ ড্রপেই প্রকট হয়ে ওঠে ভারতীয়দের শরীরী ভাষায় আত্মবিশ্বাসের অভাবটা।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

যে অভাব দেখা গেল রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রেও। এ কথা ঠিক যে ভারত দুটি দারুণ রিভিউ নেয় স্মিথ এবং ম্যাক্সওয়েলের ক্ষেত্রে। কিন্তু ম্যাচের সেরা ক্যামেরন গ্রিন শুরুতেই চাহালের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন, তখন রিভিউ নিতে সাহস পাননি রোহিত শর্মা। যাঁর নেতৃত্ব মঙ্গলবারের পর আরও একবার কাঠগড়ায় উঠছে বৈকি।

বিরাট কোহলির ক্ষেত্রে বলা হত, কোনও দ্বিতীয় পরিকল্পনা নেই তাঁর। তিনি একটাই পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন, সেটা লাগলে তুক না লাগলে তাক। রোহিত শর্মার নেতৃত্বেও তো আলাদা কিছু দেখা যাচ্ছে না। মঙ্গলবারই যেমন, কী হবে বা কী হতে পারে তা যেন আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। এতটাই প্রেডিক্টেবল। সে কারণেই পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পরও মোহালিতে ১৯তম ওভার করতে এলেন ভুবনেশ্বর কুমার। এক ওভারে স্মিথ-ম্যাক্সওয়েলের জোড়া উইকেট নিয়েও আর বল পেলেন না উমেশ। এরপরও আর জেতার আশা করা যায়? নাকি করা উচিৎ?