অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের মৃত্যু ফিরিয়ে আনছে আরও কিছু দুর্ঘটনার স্মৃতি

0
49

শান্তি রায়চৌধুরী: খেলতে খেলতে ক্রিকেট মাঠে ক্রিকেটারদের মৃত্যু নতুন কিছু নয়। আঘাতজনিত কারণে কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে, এমন তালিকা-ও বেশ লম্বা। কিন্তু মাঠের বাইরে অকালে জীবন হারানোর বিষয়টি? তার থেকে বড় যন্ত্রণা বোধহয় সত্যিই আর হয়না। বেশকিছু ক্রিকেটখেলিয়ে দেশে রয়েছে এই যন্ত্রণা। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায  প্রাণ হারিয়েছেন প্রাক্তন অজি তারকা অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। কিন্তু তিনি ছাড়াও বিশ্বজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। আসুন জেনে নেওয়া যাক, এমন পাঁচ জন ক্রিকেটারের নাম যাঁরা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

আরও পড়ুন: প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে নেতা রাহুল, অন্য দায়িত্ব রোহিতের ঘাড়ে

ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রতিভাবান অলরাউন্ডার মনে করা হত বেন হোলিওককে। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান সিম বোলিংটা-ও মোটামুটি করতে পারতেন। বড় ভাই অ্যাডাম হোলিওকের সঙ্গে একই টেস্টে অভিষিক্ত হন ১৯৯৭ সালে। সে বছরের শুরুতেই ওয়ানডে
অভিষেকের স্বাদ পান। পরে ভাই ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনা কাল না হয়ে দাঁড়ালে কে জানে, হয়ত ভাইয়ের মতো একদিন তিনিও ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে পারতেন!

হ্যান্সি ক্রোনিয়ের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, এটি ছিল বিমান দুর্ঘটনা। তাঁর মৃত্যু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত মৃত্যু। প্রায় এক দশক ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলে তিনি পেয়েছিলেন অনেক সম্মান এবং খ্যাতি। প্রোটিয়া দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাফল্যের সঙ্গে। কিন্তু মাত্র একটি ঘটনা-ই তাঁর জীবনকে এলোমেলো করে দেয়। ২০০০ সালে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হতবাক করে দেন গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকে। এরপর ক্রিকেট থেকে বাইরেই ছিলেন মৃত্যু পর্যন্ত। ২০০২ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ব্যাপারটি এখনও প্রশ্ন তোলে সন্দেহপ্রবণ ক্রিকেটপ্রেমীদের অন্তরে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৫ টেস্ট আর ৫৬টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন রুনাকো মর্টন। অনেক প্রতিশ্রুতির কেরিয়ারে ওয়ানডে গড় ছিল ৩৩। তবে টেস্টে নিজের প্রতিভা অনূদিত করতে পারেননি, গড় ছিল ২২। উজ্জ্বল কেরিয়ার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে মাঠের বাইরের আচরণের জন্য। ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ডাক পেয়েও বাদ পড়েছিলেন অদ্ভুত এক কারণে। তিনি মিথ্যাচার করেছিলেন তাঁর দাদার মৃত্যু নিয়ে। ২০১০ সালে তাঁকে শেষবারের মতো ক্যারিবীয় রঙে দেখা যায়। ২০১২ সালের ৪ মার্চ একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলে একাই গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সলোমন হোচোয় হাইওয়ে ধরে। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে সেন্ট্রাল ত্রিনিদাদের চেজ ভিলেজে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায় তাঁর গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৩ বছর।

সাল ১৯৭৫। এই বছরের শেষদিকে কেনিয়ার নাইরোবিতে একটি ম্যাচে মাত্র ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ডন প্রিঙ্গল। এই কীর্তি গড়েই গাড়ি চালিয়ে ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান। ওয়ানডে ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই প্রথম পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপে পূর্ব আফ্রিকার হয়ে খেলেছিলেন ডন। পরে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে ১৯৮৭ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন ডনের ছেলে ডেরেক প্রিঙ্গল।

২০০৭ বিশ্বকাপের ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার মঞ্জুরুল ইসলাম রানার। দল বিশ্বকাপ খেলতে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে চলে গেলে তিনি চলে যান নিজ শহর খুলনায়। ১৬ই মার্চের বিকেলে অনুশীলন শেষ করে নিজের প্রিয় মোটর সাইকেলের পেছনে সতীর্থ সাজ্জাদুল হাসানকে নিয়ে যাচ্ছিলেন শহরের অদূরে প্রিয় এক হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে। কিন্তু খুলনার বালিয়াখালি ব্রিজের কাছে আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা এক অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় তাঁদের। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া গেলেও পরে আর বাঁচানো যায়নি।