বিশ্বকবি ও ২২ গজের ঝিঁঝিঁট খাম্বাজ

0
148

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: আজ বাংলা ২৫ শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী। এমন একজন মানুষ, সাহিত্য তো বটেই, এমনকি এই বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বিষয়ে যাঁর সমান দখল। হ্যাঁ, আজ তিরোধানের ৭১ বছর পরেও। এহেন রবি ঠাকুরের ক্রিকেট নিয়েও যে আগ্রহ জন্মাবে, তাতে আর আশ্চর্য কী!

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

সিকে নাইডুর নেতৃত্বে ভারত প্রথমবার টেস্ট খেলে ১৯৩২ সালে। ১৯৩৪ থেকে রঞ্জি ট্রফি শুরু। কিন্তু এর বহু আগেই যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল এক-একটি টাউন ক্লাব। ১৮৯৩ সালে আটজন ব্রিটিশ সম্বলিত ভারতীয় দল বিলেত থেকে আগত লর্ড হক একাদশের বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি টেস্ট ম্যাচ খেলেও ফেলে। মাত্র কিছুদিন আগেই (১৮৯২) পার্সিদের একটি দল লর্ড হকদের হারিয়েছিল। মূলত এসবের কল্যাণেই ব্যাট-বলের ‘ঝিঁঝিঁট খাম্বাজে’ মজেন বেশ কিছু ভারী নাম।

রবীন্দ্রনাথ-ও ছিলেন এঁদের মধ্যে একজন। তাঁর লেখায় যদিও ক্রিকেটের খুব বিশেষ উল্লেখ পাওয়া যায় না। একটি কবিতা এবং সহজ পাঠের (দ্বিতীয় ভাগ) একটি লেখায়, নিত্যবরণকে যেখানে দলের অধিনায়ক রূপে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাট-বলের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিশ্বাস করবেন কি, বিশ্বকবিও একদা ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন?

আরও পড়ুন: মাইকেল বিভান: ফিনিশিং টাচের অবিসংবাদী প্রতীক

হ্যাঁ, ১৯৬১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইফ’ পত্রিকায় শান্তারাম রাও নামক এক ভারতীয় মহিলা সর্বপ্রথম এ দাবি করেন। “ইন্ডিয়াজ জেন্টল জিনিয়াস” প্রবন্ধে তিনি লেখেন— ইংল্যান্ডে একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখে রবীন্দ্রনাথেরও খেলার শখ জন্মেছিল, কিন্তু হাজার অনুশীলন সত্ত্বেও কোনোদিন হাত পাকাতে পারেননি। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় ১৯৬২ তে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত একটি চিঠিতে। দাদা সত্যেন্দ্রনাথের একদা ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা জাগলে কবিগুরুও নাকি তাঁর সাথে দুজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান কোচের কাছে তালিম নেওয়া শুরু করেছিলেন।

কিন্তু একবার বল লেগে চোট পেলে কোনোদিন আর মাঠমুখো হননি। জনৈক জগদীশ রায় নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে একথা জানিয়েছিলেন।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা: বল পড়ে ব্যাট নড়ে ফেসবুক পেজ।