ডিকে, দ্য ফিনিশার

0
125

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: এতদিনে যেন দলে নিজের উপযুক্ত ভূমিকা খুঁজে পেলেন দীনেশ কার্তিক। শুধুমাত্র ফিনিশারের ভূমিকা পালন করার জন্যই তাঁকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার নাগপুরে যথাযথ পালন করলেন সে ভূমিকা। যদিও এই অবিস্মরনীয় রান চেজে তাঁর ২ বলে ১০ রানের ভূমিকা কতটা, সে নিয়ে প্রশ্ন অনেকে তুলতেই পারেন।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

- Advertisement -

৪৮ বলে দরকার ৯১। এই অবিশ্বাস্য লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করা সম্ভব হল কার্যত একজনের জন্যই। তিনি অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সুনীল গাভাস্কার ম্যাচের আগেই বলেছিলেন, সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে রোহিতকে বড় স্কোর করতে হবে। পূর্বসূরীর কথার যথাযথ মান রেখে ২০ বলে অধিনায়কসুলভ ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংসেই নাগপুরে তৈরি হল জয়ের ভিত। শেষমেশ ডিকে এসে যা করলেন, তা কার্যত ফিনিশিং টাচ বলা চলে।

তবু এই ২ বলে ১০ রানের ইনিংসটা নিয়ে কথা না বলে উপায় নেই। কেন? আচ্ছা বলতে পারেন, ৭ বলে ১৪ দরকার, হাতে ৬ উইকেট। এ অবস্থায় ঋষভ পন্থ না এসে কেন ডিকে এলেন? এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেয়, দল কতটা ভরসা করছে তাঁকে, যা ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে জানিয়েও গেলেন রোহিত। আর কার্তিক ২ বলে যে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে একটা ছয় আর মিড উইকেটে একটা চার মেরে এলেন, এর ফলে ভরসার পরিমাণ আরেকটু বেড়ে যাবে, তাতেও সন্দেহ নেই।

তাঁকে তো দলে নেওয়াই হয়েছে এ কারণে। সে যতই শেষ ৬ বলে মাত্র ৯ বাকি থাকুক। কত দল এ জায়গা থেকেও ম্যাচ খুইয়েছে। আইপিএলের জমানায় হামেশাই দেখা যায় এমনটা। তাছাড়া দীনেশ কার্তিক, তাঁর নিজেরও তো অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল। তিনি তো ভুলতেই বসেছিলেন, কেন তাঁকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়েছে কিংবা ঋষভ পন্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বদলে তাঁকে (পড়ুন, কার্তিককে) সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দ্রাবিড়-রোহিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্বেও দলে সুযোগ মেলেনি, ব্যখ্যা শার্দূল ঠাকুরের

এদিনের ২ বলে ১০ একটু নয়, অনেকটাই অক্সিজেন দিয়ে গেল দীনেশ কার্তিক, সেইসঙ্গে টিম ইন্ডিয়াকে-ও। ভাবা যায়, ডিকে যখন ড্যানিয়েল স্যামসের পরপর দুই বলে খেলা শেষ করে দিচ্ছেন, উল্টোদিকে রোহিত শর্মা। যাঁর সঙ্গে গত ম্যাচে কার্তিকের একটি মুহূর্ত এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম কন্টেন্ট। ম্যাক্সওয়েলের ক্যাচ নেওয়ার পর ডিকে’র মুখ চেপে ধরেছিলেন অধিনায়ক রোহিত। আজ সেই রোহিতের উল্টোদিকে ডিকের ফিনিশিং টাচ যেন বছরের সেরা ইমেজারি হয়ে রইল ভারতীয় ক্রিকেটে। সেইসঙ্গে বজায় থাকল নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের রীতি। আজ অবধি কখনওই মেন ইন ব্লু অজিদের কাছে নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে হারেনি।