ধোনির দেখানো পথেই সেরা অস্ট্রেলিয়া, হারল কিউইরাও

১৪ বছরে ৭ খানা সংস্করণ লেগে গেল ৫০ ওভারে ৫ বারের বিশ্বসেরার রক্তের স্বাদ পেতে। কিন্তু শিশু দিবসের হাইভোল্টেজ ফাইনালের যদি তাকান, সেখানে অ্যারন ফিঞ্চরা কোথায়? বরং খুঁজে পাওয়া যায় ধোনির ভারতকে।

0
60

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: জিতল অস্ট্রেলিয়া। হারল নিউজিল্যান্ড। রেকর্ডবুকে এই কথাই লেখা থাকবে রবিবার থেকে। কিন্তু সত্যিই তাই কী?

সেই ২০০৭ থেকে হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৪ বছরে ৭ খানা সংস্করণ লেগে গেল ৫০ ওভারে ৫ বারের বিশ্বসেরার রক্তের স্বাদ পেতে। কিন্তু শিশু দিবসের হাইভোল্টেজ ফাইনালের যদি তাকান, সেখানে অ্যারন ফিঞ্চরা কোথায়? বরং খুঁজে পাওয়া যায় ধোনির ভারতকে।

আরও পড়ুন: Earthquake: টি -২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন দুবাইয়ে ভূমিকম্প

২০০৭ টি-টোয়েন্টির কথাই ধরুন। ফেভারিট কোন ছাড়, সেমিফাইনালিস্ট হিসেবেও কেউ রাখেননি চ্যাম্পিয়ন ‘মেন ইন ব্লু’কে। এবারের অজিরাও কী খুব আলাদা? তাদের জন্য শেষ চারের একটি স্লট অবশ্য সকল বিশেষজ্ঞই বরাদ্দ রেখেছিলেন। কিন্তু দুবাইয়ে সদ্য শেষ হওয়া রূপকথা? চিন্তাটুকুও করতে পেরেছিলেন কেউ?

হয়ত আজও পারতেন না যদি না ফিঞ্চ টসে জিততেন। এবং পরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিতেন। বিশ্বকাপ তো সদ্য শেষ হল, অস্ট্রেলিয়া তাদের অষ্টম আইসিসি ট্রফি জিতে নিল। কিন্তু ফাইনাল— এমনকি সেমির বহু আগে থেকেই একটি ঠাট্টা সামাজিক মাধ্যমে বেশ চালু— কোনও দল নয়, এবারের বিশ্বকাপ জিতছে শিশির। শিশিরের জন্য গোটা টুর্নামেন্টে যেন টোনই সেট হয়ে গিয়েছিল। একমাত্র পরে ব্যাট করলেই জেতা সম্ভব।

রবিবারের ম্যাচ সে টোন পাকাপাকি করে দিল ঠিকই, তা বলে প্রাথমিক চিন্তা কী ছিল না? হুঁ হুঁ, এ হল বিশ্বকাপ তোলার লড়াই বাওয়া! যতই শিশির থাক্— বল জবজবে হয়ে যাক্। ১৭২ চোখের সামনে থাকলে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ হতে বাধ্য। কিন্তু আবার ‘টিম ইন্ডিয়া’। ২০১১ -র ২ এপ্রিল ধোনিরা তাড়া করেছিলেন ওডিআই বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বাধিক রান। আর এদিন ওয়ার্নার (৭৭*) আর মার্শের (৫৩) ঝোড়ো ব্যাট করল টি-টোয়েন্টি ফাইনালের সর্বোচ্চ তাড়া।

হট ফেভারিট ভারত শেষ চারের আগেই পগারপার। পাকিস্তানকে হারিয়ে ক্যাঙারুরা ফাইনালে উঠেছে, স্বাভাবিকভাবে তাদেরই সমর্থন করার কথা আসমুদ্র হিমাচলের। কিন্তু উল্টোদিকে থাকা কিউইরাও যে ইদানীংকালে সবচেয়ে ধারাবাহিক বাহিনী। ২০১৫ বিশ্বকাপ রানার্স, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি সেমিফাইনালিস্ট, ২০১৯ বিশ্বকাপ রানার্স, ২০২১ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বিজেতা।

এই কিউইরাও শুরু করল ভারতের দেখানো পথে। ২০১১ -র গোটা টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি নেতা ধোনি। কিন্তু ওয়াংখেড়েতে পুষিয়ে দেন সবটা। এদিনও যে একই কিসসা। বিগত হাফডজন ম্যাচে মাত্র ১৩১ রানে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসনের ৪৮ বলে ৮৫ র জোরেই ১৭২/৪ য়ে পৌঁছল ব্ল্যাক ক্যাপরা।

শিশির-তত্ত্ব মাথায় রেখেই বলি, ফাইনালের নিরিখে রান মোটেই খারাপ নয়। তবু আরও ২০টা রান কী আসতে পারত না? মার্টিন গাপ্তিল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের মালিক, পরিচিত বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা নেওয়া দূরে থাক, দ্বাদশতম ওভারের প্রথম বলে যখন ফিরে গেলেন, তাঁর নামের পাশে কিম্ভুতকিমাকার স্কোর। ৩৫ বলে ২৮। এর ফলেই ওই রানগুলো যোগ হল না কেন এন কোম্পানির খাতায়। এই হিসেব উল্টে দিতে পারতেন একমাত্র ট্রেন্ট বোল্ট। সে চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের ২টি উইকেটই তাঁর নামে। বিলিয়েছেন মাত্র ১৮। কিন্তু উল্টোদিকের সমর্থন? সাউদি-সোধীরা খড়কুটোর মত উড়ে গেলেন মার্শদের মরুঝড়ের সামনে। সবচেয়ে দর্শনীয়, যখনই উইকেট পড়েছে, পরের ওভারেই অস্ট্রেলিয়া যেন লম্ফ দিয়ে উঠেছে রানের গতি বাড়ানোয়। যেন আর সময়ই নেই। ফলে বিপক্ষের ওপর চাপটাই তৈরী করা সম্ভব হল না কিউই বোলারদের পক্ষে।

আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ভারতের বিদায়ে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন আইসিসি

উইলিয়ামসন চেয়েছিলেন ২০১১ -র এমএসডি হতে। আর তাঁর দল ভারত। কিন্তু শেষপর্যন্ত ২০১৩ পরবর্তী ‘মেন ইন ব্লু’ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল। সেই দল, যারা ধারাবাহিকভাবে টুর্নামেন্টের নক-আউটে উঠবে, কিন্তু ট্রফিতে কোনও অধিকার নেই। আবার সেই ভারতও হলেন কালো টুপিধারীরা, যাঁরা নির্দিষ্ট একটি প্রতিপক্ষের কাছে নক-আউট হারতে অভ্যস্ত। প্রতিপক্ষটি তাঁরাই— নিউজিল্যান্ড। আর তাঁরা নিজেরা বেশি না, মাত্র তিনটি আইসিসি ফাইনাল হারলেন ট্রান্স-তাসমান রাইভ্যালদের কাছে। ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০১৫ বিশ্বকাপ এবং…..