ভারতীয় ক্রিকেটকে সামনে পেলেই কাঁচা চিবিয়ে খেতেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস

0
131

স্পোর্টস ডেস্ক: টিম ইন্ডিয়াকে দেখলেই যাঁরা স্রেফ কাঁচা চিবিয়ে খাওয়ার মানসিকতা নিয়ে ২২ গজে নামাতেন, অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস তার মধ্যে অন্যতম নাম। বরাবরই ভারতের শক্ত গাঁট তিনি। সে ক্রিকেটীয় প্রসঙ্গেই হোক কিংবা অক্রিকেটীয়। চোখের সামনে ভারতীয় দল বা বলা ভাল ভারতীয় বোলারদের দেখলেই যেন এক বাড়তি জোশ চলে আসত এই আফ্রো-ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত অজি তারকার মধ্যে।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

খুব যে বেশি ম্যাচ খেলেছেন টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে, তা কিন্তু নয়। মাত্র ৪টি টেস্ট, ৩৬টি একদিনের ম্যাচ আর মাত্র ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। কিন্তু এরই মধ্যে যা ছাপ রাখার রেখে গিয়েছেন। যার দরুন তাঁকে নামতে দেখলেই একসময় বুক কেঁপে উঠত আপামর ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীর।

টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর গড় ৬৮.৩৩। সর্বোচ্চ স্কোর ১৬২ অপরাজিত। যা তাঁর টেস্ট জীবনেরও সর্বোচ্চ স্কোর। এই ইনিংস নিয়ে যদিও অনেক কথাই বলা যায়। ২০০৮ সালের কুখ্যাত সিডনি টেস্ট, যেখানে এই সাইমন্ডস-ই হরভজন সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন কুখ্যাত ‘মাঙ্কিগেট’ কাণ্ডে। একই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে এই ১৬২ রান করেন সাইমন্ডস। আম্পায়ারের বদান্যতায়। আম্পায়ার স্টিভ বাকনার তাঁর বিরুদ্ধে পরিষ্কার কট বিহাইন্ডের আবেদন বাতিল করে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: এই বছর-ই শেষবার আইপিএল খেলছেন লিখেও টুইট ডিলিট করলেন রায়ডু

কিন্তু মাত্র এই একটি ম্যাচ দিয়ে তাঁকে বিচার করা মূর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয়। বাকি পরিসংখ্যান কি আর মুখ দেখে তৈরি হয়েছে? একদিনের ক্রিকেটে ভারতের বিরুদ্ধে ৩৬ ম্যাচে তাঁর রানসংখ্যা এবং গড় যথাক্রমে ১,০৬৭ এবং ৪১.০৩‌। এমনকি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ভারতের বিরুদ্ধে সাইমন্ডসের গড় উল্লেখযোগ্যভাবে ৩১.৫০। যা ২০০৭-০৮ -এর যুগে মহার্ঘ্য বললেও বোধহয় অত্যুক্তি হয় না।

অক্রিকেটীয় প্রসঙ্গগুলিই বা ভুলি কী করে? ২০০৭ সালের একটি ওডিআই ম্যাচে ভারতীয় বোলার শ্রীশান্থ সাইমন্ডসকে আউট করার পর দাঁত খিঁচিয়েছিলেন। ঠিক যেভাবে একটি বাঁদর দাঁত খিঁচায়। ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। সাইমন্ডসের চেহারা, তাঁর গায়ের রঙ। কিন্তু কারণ? কেন আবার, তাঁর নামের পাশে ততক্ষণে ৮৭। এই ঘটনার জের মিটতে না মিটতেই কুখ্যাত ‘মাঙ্কিগেট’। ঠিক মাসদুয়েক পর।

হরভজন আদৌ সাইমন্ডসকে বাঁদর বলেছিলেন নাকি অন্যকিছু বলেছিলেন? আজও চর্চার বিষয়। কিন্তু টেস্ট সিরিজের পর আয়োজিত ত্রিদেশীয় কমনওয়েলথ ব্যাঙ্ক সিরিজের দুটি ফাইনালেই সাইমণ্ডসকে সাজঘরে ফেরান ভাজ্জি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন, সাইমন্ডসকে দুটি ফাইনালেই আউট করতে পেরে অস্বাভাবিক তৃপ্ত তিনি। এ থেকেই স্পষ্ট ভারতীয়দের চোখে কোন জায়গায় ছিলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস।

অতঃপর আজ গাড়ি দুর্ঘটনায় চিরতরে জীবনের ২২ গজ ছেড়ে চলে গেলেন সেই সাইমন্ডস। আজ কী তাঁর ভারতীয় শত্রুদের হৃদয়ও ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে না? সমস্ত বিরোধের, সমস্ত শত্রুতার-ই অন্ত ঘটে গেল ১৪ মে, ২০২২।