করোনা তাড়াতে নরবলি ওড়িষায়

0
596

ওড়িশা: করোনার প্রকোপে গোটা বিশ্ব শিহরিত৷ এই মারণ ভাইরাস মোকালিবায় প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের গবেষক থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরা লড়ে চলেছে৷ এই পরিস্থিতিতে একাধিক গুজবের খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ তেমনি এবার প্রকাশ্যে এল নরবলি৷ ঘটনাটি ওড়িশার কটকের নরসিংপুরে৷

জানা গিয়েছে, সেখানের এক মন্দিরের পুরোহিত নাকি স্বপ্নে দেখেছেন নরবলি দিলে করোনার প্রকোপ নাকি কমে যাবে৷ অভিযুক্ত পুরোহিতের নাম সংসারি ওঝা (৭২)৷ নরসিংহপুরেরই একটি দেবী মন্দিরে বহুকাল ধরে তিনি পুজো করে আসছেন৷ বুধবার রাতে তিনি নরবলির মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন৷

- Advertisement -

মন্দির রক্তে ভেসে যাচ্ছে৷ চৌকাঠের বাইরে পড়ে রয়েছে এক ব্যক্তির ধড় থেকে বাকি দেহ৷ মাথাটা মন্দিরের ভিতর গড়াচ্ছে৷ চারিদিকে ছেঁড়া জামাকাপড় ছড়ানো রয়েছে৷ বৃহস্পতিবার সকাল হতেই এই দৃশ্য নজরে আসে স্থানীয়দের৷ মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷

অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুরোহিত সংসারি ওঝার সকাল হতে হুঁশ ফেরে৷ সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান থানায়৷ তার সারা শরীর রক্ত মাখা৷ তাকে দেখে রীতিমতো ভয় পেয়ে যায় থানায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা৷ দু’হাত থরথর করে কাঁপছে সংসারির৷ পুলিশের সামনে নিজের মুখেই স্বীকার করেন, “ভগবান স্বপ্ন দিয়েছিলেন। মানুষ বলি দিলেই করোনা পালাবে। একজনের মাথা কেটে উৎসর্গ করেছি।”

তার মুখ থেকে এমন কথা শুনে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ৷ সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় ঘটনাস্থলে৷ সাধারণ মানুষের ভিড় সরিয়ে মন্দিরের ভিরত ঢোকেন তাঁরা৷ সেখান থেকে রক্তমাখা একটি কুঠার উদ্ধার করে পুলিশ৷ ওই কুঠার দিয়েই খুন করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে৷ এমনটাই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি ওই এলাকারই বাসিন্দা৷ নাম সরোজ কুমার প্রধান৷ এলাকারই একটি আমবাগানের মালিকানা নিয়ে ওই পুরোহিতের সঙ্গে সরোজের ঝামেলা চলছিল৷ এছাড়াও বহুবিধ কারণে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা লেগে থাকত৷ সেই সব কারণেই সরোজকে খুন করেছে পুরোহিত৷ এমনটাই দাবি স্থানীয়দের৷

যদিও অভিযুক্ত পুরোহিতের দাবি, কোনো ঝামেলার কারণে তিনি সরোজকে মেরে ফেলেননি৷ ভগবান তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল নরবলি দিলে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে৷ তাই তিনি সাধনার জন্য ওই ব্যক্তির মুণ্ডু ভগবানের কাছে উৎসর্গ করেছেন৷ তাই তিনি এই ঘটনাকে খুন বলতে নারাজ৷ এই হত্যাকে অপরাধ বলে মানতে রাজি নন তিনি৷

ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷ ঘটনার সময় ওই পুরোহিত নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷ তাই তিনি রাতে কি ঘটিয়ে ফেলেছেন বুঝতেই পারেননি৷ এবং সকালে তার নেশার ঘোর কাটতেই তিনি সবটা বুঝতে পেরে আত্মসর্মণ করেছেন৷ এমনটাই জানিয়েছেন ডিআইজি আশিস কুমার৷