ভক্তি দেখাতে গিয়ে করোনাকে সাদরে আমন্ত্রণ, মত বিশেষজ্ঞদের

0
26

কলকাতা: টানা দু’বছর সেভাবে রথযাত্রা পালন হয়নি৷ স্বভাবতই, দু’বছরের ঘাটতি সুদে আসলে মিটিয়ে নিতে পুরী থেকে মায়াপুর, সর্বত্রই মাস্কবিহীন বেপরোয়া ভিড়ের রেকর্ড গড়েছি আমরা৷ সেই ধারা বজায় রেখে শনির সকাল থেকে বিপত্তারিনীর পুজো উপলক্ষ্যেও কালীঘাট থেকে জেলার মন্দির-সবত্রই মানুষের উপচে পড়া ভিড়৷

রথ উপলক্ষ্যে প্রতিটি এলাকায় বসেছে মেলা৷ বাড়তি জন সমাগম সেখানেও৷ স্বভাবতই, ভিড়ের দাপট দেখে উষ্মা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁরা বলছেন, দুয়ারে হাজির করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের থাবা৷ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা৷ গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ১৪ শতাংশ৷ তবু সংক্রমণ নিয়ে যেন মানুষের কোনও মাথাব্যাথায় নেই৷ থাকলে অন্তত এভাবে মাস্কবিহীন উপচে পড়া ভিড় দেখতে হত না!

বস্তুত, রথযাত্রার উৎসবকে ঘিরে শুক্রবার দিনভর প্রতিটি এলাকাতেই যেভাবে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছে, তাতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁরা বলছেন, ভিড়ের চেয়েও বেশি উদ্বেগের যেটা, সেটা হল ৯৯ শতাংশের মুখেই দেখা যায়নি মাস্ক৷ এমনকি পুরী থেকে মায়াপুর কিংবা মফঃস্বল, প্রতিটি রথযাত্রার শোভাযাত্রায় পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক আধিকারিককে দেখা গেলেও তাঁদেরও সিংহভাগের মুখে ছিল না মাস্ক৷ দূরত্ববিধি মেনে চলার তো প্রশ্নই ওঠে না৷ কারণ, চারিদিকে শুধুই থিকথিকে ভিড়৷

যার ফলে ফের করোনার সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে৷ বস্তুত, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর প্রকাশিত কোভিড বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৯ জন। কলকাতায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাতশো৷ বাড়ছে সংক্রমণের হারও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ৷ দুয়ারে কড়া নাড়ছে সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউ৷ তারপরও পিপু ফিশুর (পিঠ পুড়ছে ফিরে শু) মতো আচরণ আমরা জারি রাখলে কি বা করার আছে?

আরও পড়ুন: শুভেন্দুর সামনেই তাণ্ডব চালাল সিআরপিএফ, জওয়ানদের মারে মৃত্যুর মুখে চালক