মৃত মাকে দু’দিন আগলে দুধের শিশু, কোভিডের ভয়ে মুখ ফেরালেন পড়শিরা

পাড়া প্রতিবেশীদের সন্দেহ, কোভিডে সম্ভবত মারা গিয়েছেন ওই মহিলা৷ তাই শিশুটিকে ধরলেও তাঁরাও আক্রান্ত হতে পারেন করোনায়৷

0
248

মহারাষ্ট্র: ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসছে কান্নার আওয়াজ৷ খোলা জানলা দিয়ে উঁকি মেরে পড়শিরা দেখল, ১৮ মাসের শিশু তার মায়ের মৃতদেহ আগলে কাঁদছে৷ এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য থেকেও ঘরে ঢুকে শিশুটির কাছে ঘেঁষলেন না কেউ৷ পাড়া প্রতিবেশীদের সন্দেহ, কোভিডে সম্ভবত মারা গিয়েছেন ওই মহিলা৷ তাই শিশুটিকে ধরলে তাঁরাও আক্রান্ত হতে পারেন করোনায়৷ অথচ তাঁরা একবারও ভাবলেন না মা মরা ছেলেটি অভুক্ত রয়েছে৷ নিজের হাতে জল গড়িয়ে পর্যন্ত সে খেতে পারে না৷ তবুও মন গলেনি এলাকাবাসীর৷ পাড়া পড়শিদের এমন অমানবিকতার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের পুণে৷

আবার সেই পুণেই দেখল পুলিশের মানবিক মুখ৷ বাড়ির মালিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ৷ দরজা ভেঙে উদ্ধার করে মহিলার মৃতদেহ৷ এরপর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয় হাসপাতালে৷ পুলিশের সামনেও শিশুটিকে ধরতে অনীহা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা৷ তখন এগিয়ে আসেন স্থানীয় থানার দুই মহিলা কনস্টেবল সুশীলা গাভালে এবং রেখা ওয়াজে৷

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে মারা যান ওই মহিলা৷ তাঁর স্বামী কাজের সূত্রে উত্তরপ্রদেশে থাকেন৷ কাজেই মহিলার মৃত্যুর পর ঘরে একাই ছিল একরত্তি শিশুটি৷ সোমবার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ অর্থাৎ এই দু’দিন বাচ্চাটি জল ও খাবার ছাড়াই ছিল৷ শিশুটিকে যখন পুলিশ উদ্ধার করে তখন তার গায়ে সামান্য জ্বর ছিল৷ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে৷ বাচ্চাটির কোভিড টেস্টও হয়৷ তবে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে৷

চিকিৎসকরা জানান, বাচ্চাটিকে খাওয়ালেই সে আবার ঠিক হয়ে যাবে৷ তখনই এগিয়ে আসেন ওই দুই মহিলা কনস্টেবল৷ সুশীলা জানিয়েছেন, ‘‘আমার নিজের দুটি সন্তান আছে৷ একজনের বয়স ৮ বছর৷ অপরজনের ৬ বছর৷ এই বাচ্চাটিও আমার সন্তানের মতোই৷ ওকে আমি দুধ খাইয়েছি৷ খুব খিদে পেয়েছিল ওর৷’’ পেটে খাবার যেতেই একটু একটু করে সুস্থ হতে থাকে শিশুটি৷ এরপর তাকে সরকারি হোমে স্থানান্তরিত করা হয়৷

অপরদিকে মহিলার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে পায়নি পুলিশ৷ তাই তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও অজানা৷ তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা সেটাও জানা যায়নি৷ পুলিশ ইনস্পেক্টর প্রকাশ যাদব জানিয়েছেন, ‘‘ওই মহিলার স্বামী এখন উত্তরপ্রদেশে রয়েছেন৷ তাঁর ফেরার অপেক্ষায় রয়েছি আমার৷’’