অস্তমিত দিলীপ ঘোষের পদে কে? শুভেন্দুর ইঙ্গিতে খই ফুটছে বঙ্গ রাজনীতিতে

0
186

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: আপাতত জম্মু কাশ্মীরের লেহতে দিলীপ ঘোষ৷ যাওয়ার আগে বলে গিয়েছেন, ‘ঘুরতে যাচ্ছি’৷ ঘুরতে গিয়ে নিজের তোলা ‘সূর্যাস্তে’র ছবি টুইটারে আপলোড করে সভপতি পদ থেকে তাঁর অপসারণের জল্পনাকে উস্কে দিয়েছেন নিজেই৷ লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় সেই জল্পনায় ঘি ঢাললেন শুভেন্দু অধিকারী৷

আরও পড়ুন: ‘ভাইপো’র পর কয়লাকাণ্ডে এবার শুভেন্দুর নিশানায় রাজ্যের সাত আইপিএস

- Advertisement -

ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং কতখানি লড়াকু, সংগ্রামী তা বোঝাতে গিয়ে নিজের লড়াই সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা টানলেন শুভেন্দু৷ একই সঙ্গে বললেন, ‘‘উনি (অর্জুন সিং) তো আমারও নেতা! দলের রাজ্য সহ সভাপতি৷ পদাধিকার বলে দিলীপদার পরে সভাপতি তো উনিই!’’

আরও পড়ুন:  মমতার সরকার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামের বিধায়ক, বিধানসভার অলিন্দে দাপুটে বিরোধী দলনেতা হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারীর এহেন বয়ান সন্ধ্যা থেকেই উল্কার গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে৷ সূত্রের খবর, শুভেন্দুর এহেন বক্তব্যের জেরে দিলীপ অপসারণের জল্পনা কার্যত সুনামীর আকার নিয়েছে৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘বিবাগী’ দিলীপের স্নায়ুর চাপ বাড়াতেই শুভেন্দু এই কৌশলী মন্তব্য করেছেন৷

স্বভাবতই, জল্পনার ঢেউ পৌঁছেছে কাশ্মীরের লেহতেও৷ টেলিফোনের ওপার থেকে ‘খাসখবর’কে দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘‘শুভেন্দু কি প্রসঙ্গে কি কথা বলেছে তা না জেনে বলতে পারব না৷ তবে কিছু লোকের কাজই বিতর্ক তৈরি করা৷ আমি ওসবের মধ্যে নেই৷ ঘুরতে এসেছি৷ ছবি তুলতে ভালবাসি৷ তুলছি৷ ব্যস, এখন এর বেশি কোনও কথা নয়৷’’ স্বাভাবিকভাবেই জল্পনার পারদ ক্রমশ উর্ধমুখী৷

ঘটনার সূত্রপাত, দলের উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতা তথা চাকদহের বিধায়ক অসীম সরকারের হরিণঘাটার বাড়িতে বৃহস্পতিবার গিয়েছিলেন শুভেন্দু৷ আক্রান্ত বিধায়কের সঙ্গে দেখা করে সন্ধ্যায় ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং ও তাঁর পুত্র পবন সিংয়ের সঙ্গে বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন শুভেন্দু৷ বৈঠক শেষে অর্জুনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শুভেন্দুর কন্ঠে শোনা যায়, ‘‘আমার আর অর্জুন সিংয়ের আদর্শগত লড়াই একাই৷ আমাদের নাম আলাদা হলেও মত, পথ, লড়াইয়ে সবটা মিলিয়ে দেখবেন আমরা একই স্টাইলে কাজ করি৷’’

এরপরই শুভেন্দু বলেন, ‘‘‘উনি (অর্জুন সিং) তো আমারও নেতা! দলের রাজ্য সহ সভাপতি৷ পদাধিকার বলে দিলীপদার পরে সভাপতি তো উনিই!’’ ব্যাস, তারপর থেকেই বিজেপির অন্দরে তো বটেই, রাজ্য রাজনীতির উঠোনে কার্যত জল্পনার খই ফুটছে উল্কা গতিতে৷ দলেরই একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, শুভেন্দুর মতো নেতা আলপটকা মন্তব্য করেন না৷ উনি নিজের কথাবার্তার বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্ববান৷ ফলে প্রকাশ্যে উনি এমন কথা বলেছেন মানে নিশ্চয়ই তাতে কোনও ইঙ্গিত রয়েছে৷