মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতে নতুন জেলা ‘বসিরহাট’, প্রহর গুনছেন বাসিন্দারা

0
132

নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: ৩০ লক্ষ জনবসতি পূর্ণ মহাকুমায় নেই সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থা৷ মহকুমার এমন এমন জায়গা রয়েছে সেখান থেকে শহর দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার৷ তাই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেখে আলাদা স্বাস্থ্য ও পুলিশ জেলা করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তারপর থেকেই নতুন জেলা পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর বাসিন্দারা৷

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরেই বসিরহাটকে আলাদা জেলা করার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে রাজ্যের একাধিক জেলাকে ভাগ করে নতুন জেলা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বঞ্চিত থেকে গিয়েছে বসিরহাট। উত্তর ২৪ পরগণা জেলার প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়েই বসিরহাট মহকুমা।

এই মহাকুমার আয়তন ১৭৭৭.০২ স্কয়ার কিলোমিটার। প্রায় ৩০ লক্ষ জনবসতিপূর্ণ এই মহকুমায় রয়েছে তিনটি পুরসভা, দশটি ব্লক সহ ৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ১১টি থানা। যা রাজ্য তথা দেশের অনেক জেলাকেই হার মানায়। এই মহকুমার একদিকে যেমন রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ব্লক বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর ও বসিরহাট ১নং ব্লক।

অন্যদিকে, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভের সুন্দরবন। সন্দেশখালি ১ ও ২নং, মিনাখাঁ, হাড়োয়া, হাসনাবাদ ও হিঙ্গলগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ব্লক। এই সমস্ত প্রান্তিক জায়গা থেকে বসিরহাট মহকুমা সদর শহর বসিরহাটে আসতেই কালঘাম ছুটে যায় এই সমস্ত নাগরিকদের। আর যদি জেলার কোন কাজ থাকে সে ক্ষেত্রে প্রায় একশো থেকে দেড়শো কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যেতে হয় উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সদর শহর বারাসাতে।

যে কোন অফিসিয়াল কাজ নিয়ে বসিরহাটে আসতে গেলে বিশেষ করে সমস্যার মধ্যে পড়েন নদীমাতৃক সুন্দরবনের মানুষ। কারণ একাধিক নদী পেরিয়ে আসতে হয় আর তার উপর এইসব জায়গাগুলি থেকে বসিরহাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা তো তথৈবচ। মহকুমার এমন এমন জায়গা রয়েছে সেখান থেকে শহর বসিরহাটের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ইতিমধ্যে উন্নততর পরিষেবা দেওয়ার জন্য বসিরহাটকে আলাদা স্বাস্থ্য ও পুলিশ জেলা করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চলতি মাসের ১২ তারিখ কলকাতার টাউন হলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন জেলার ইঙ্গিত পেয়েছেন বসিরহাটের মানুষ।

বসিরহাটের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যদি বসিরহাটকে আলাদা জেলা করা হয় তাহলে আর ছুটে ছুটে বারাসাত যেতে হবে না। কারণ প্রান্তিক এলাকার মানুষের কাছে নিজেদের কাজ বাদ দিয়ে বারাসত যাতায়াত করতে একটা দিন বেরিয়ে যায়। তাতে একদিকে যেমন সময় তো নষ্ট হয় পাশাপাশি বাস, নৌকা ও ট্রেনের ভাড়া দিতে দিতেই পকেট হয়ে যায় খালি। জেলা হলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।

পাশাপাশি, জেলার সদর শহর বসিরহাট হলে সেখানকার জীবনযাত্রার আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ৷ সেই সঙ্গে ভালো হবে যোগাযোগ মাধ্যম৷ চালু হবে একাধিক রুটের বাসও৷ থাকবে অনেক দফতর৷ ফলে কর্মসংস্থানের দিকে আরো এক পা এগিয়ে যাবে বলে মনে করছে বসিরহাট মহকুমা। বিশেষ করে সুবিধা পাবেন সীমান্তবর্তী ও সুন্দরবনের মানুষ৷ কিন্তু বসিরহাটকে জেলা হিসাবে ঠিক কবে ঘোষণা করা হবে? সেই দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছে গোটা বসিরহাট৷