অনির্বাণের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক, নির্ধারণ করতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির ভবিষ্যত

স্বভাবতই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে একজন রাজ্য নেতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কখন বৈঠক করেন? দলের একটা সিংহভাগ অংশ মনে করছে, সময়ের আগেই চাকরি ‘খোয়াতে’ হতে পারে দিলীপবাবুকে৷

0
138

কলকাতা: ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার দিন শেষ৷ শুভেন্দু অধিকারীর এদফার দিল্লি সফরের পর দিলীপ ঘোষ সম্পর্কে এমনই মন্তব্য ভাসতে শুরু করেছে ৬ নম্বর মুরলীধর স্ট্রিটে৷ বিষয়টি ভাবাচ্ছে দিলীপ ঘনিষ্ঠদেরও৷

আরও পড়ুন: প্রতিবেশী গ্যাংস্টার নয় তো! বহুতলের অন্দরে সন্দেহের বাতাবরণ

কেন? সূত্রের খবর, সোমবার থেকে লক্ষ্মীবার সকাল পর্যন্ত রাজধানী দিল্লিতে শুধু রাত্রিবাসই করেননি মোদি, শাহ থেকে জেপি নড্ডা, এমনকি দলের তাত্ত্বিক নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে শুভেন্দুকে৷ ফলে দিলীপ ঘনিষ্ঠদের সবচেয়ে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দুর দীর্ঘ বৈঠকের বিষয়টি৷

আরও পড়ুন: দলনেত্রীর নির্দেশ উড়িয়ে মদন বোঝালেন মেজাজটাই আসল রাজা

কারণ, এবারের ভোটে দল বোলপুর থেকে প্রার্থী করেছিল অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়কে৷ বাংলায় গেরুয়া সরকার গঠিত হলে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদেও দেখা যেত তাঁকে৷ তাত্ত্বিক এই নেতা রয়েছেন দলের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণ কমিটিতেও৷ দিলীপ ঘনিষ্ঠরা বলছেন, বাংলার ভোট ময়দানে নেমে অনির্বাণবাবু হাতে কলমে চাক্ষুষ করেছিলেন, বঙ্গ রাজনীতিতে দিলীপের চেয়ে শুভেন্দুর দক্ষতা ও যোগ্যতা দুইই বেশি৷ ফলে বঙ্গে দলের বিস্তারের প্রসঙ্গে অনির্বাণের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকের বিষয়টি বাড়তি ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দিলীপ ঘনিষ্ঠদের৷

আরও পড়ুন: মমতাকে ‘জব্দ’ করতে সংসদে নুসরতের ‘সহবাস’ই তুরুপের তাস বিজেপির

স্বভাবতই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে একজন রাজ্য নেতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কখন বৈঠক করেন? দলের একটা সিংহভাগ অংশ মনে করছে, সময়ের আগেই চাকরি ‘খোয়াতে’ হতে পারে দিলীপবাবুকে৷ কারণ, বিজেপি সঙ্ঘ নির্ভর দল হলেও বাংলার ভোটে শোচনীয় ফলাফলের পর সঙ্ঘ নেতারাও বিশেষ নাক গলানোর সাহস দেখাচ্ছেন না৷ এদিকে বঙ্গে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শুভেন্দুকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়াটাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন শীর্ষ নেতৃত্বর সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশ৷ তাঁদের মতে, ‘‘বাংলায় মমতার ক্ষমতা খর্ব করতে হলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পথই বেছে নিতে হবে৷ সেটা শুভেন্দুর চেয়ে কেউ ভাল পারবে না৷’’

দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘মুকুলদার হালটা এখন না ঘরকা না ঘাটকা৷ অন্যদিকে দিলীপদার আমলে বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক অগ্রগতি ঘটেছে, এটা মাথায় রেখেও বলতে হয় যে তুল্যমুল্যর বিচারে দিলীপদা ১০ এ পাঁচ পেলে শুভেন্দু অন্তত সাত পাওয়ার যোগ্য!’’ কেন একথা বলছেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি, ‘‘জেলা থেকে গণ সংগঠনের মাধ্যমে উঠে আসা শুভেন্দুর রাজনৈতিক দক্ষতা প্রশ্নতাতীত৷ তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বলয়ও বেশ প্রশস্ত৷ টাফ লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি নিজের সেই দক্ষতা-যোগ্যতার ছাপ রেখেছেন৷ সুবক্তা হিসেবে এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষিতেও দিলীপের থেকে শত যোজন এগিয়ে শুভেন্দু৷’’

বঙ্গের এক বিজেপির সাংসদ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘খেয়াল করে দেখুন অমিত শাহের মতো নেতাও শুভেন্দুকে দলে যোগদানের দিন থেকেই বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন৷ ও মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছে৷ তাই শুধু বিরোধী দলনেতা নয়, রাজ্যে সংগঠনের বিস্তারে এই মুহূর্তে শুভেন্দুর বিকল্প কেউ নেই৷’’ সৌমিত্র খাঁ, অর্জুন সিংদের মতো সাংসদরাও ক্ষুব্ধ দিলীপবাবুর ওপর৷ ফলে এই মুহূর্তে বাংলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে শীর্ষ নেতৃত্ব ‘বেটার অপশন’ বেছে নিলে, সেটাই হবে ‘সাহসী’ পদক্ষেপ- মত দলের সংখ্যাগরিষ্ঠের৷

কারণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুভেন্দুর সফরনামা থেকেই স্পষ্ট, এই বৈঠক সূচি পূর্ব নির্ধারিতই ছিল এবং শীর্ষ নেতৃত্বর কাছে তিনি ক্রমেই গুরুত্ববান হয়ে উঠছেন৷ তাৎপর্যপূর্ণভাবে শুভেন্দুর দিল্লি সফর ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে দিলীপবাবুর কন্ঠে শোনা গিয়েছে অভিমানের সুর, ‘‘শুভেন্দু কেন দিল্লি গিয়েছেন সেটা দিল্লির নেতারাই বলতে পারবেন৷’’

তবে কি ছন্দ পতন ঘটতে পারে রাজ্য বিজেপির চলার পথে? দিল্লী থেকে গেরুয়া শিবিরের এক শীর্ষ নেতার আভাস, ‘‘দিলীপবাবুর অতীতের আচার, আচরণে ক্ষুব্ধ রাজ্যের একাধিক বিজেপি সাংসদও৷ তবে নির্বাচনের সময় এসব নিয়ে ভাবতে গেলে সমস্যা আরও বাড়ত৷ কিন্তু এখন পরিস্থিতির বদল ঘটছে৷ হুগলি থেকে বর্ধমান, জেলায় জেলায় দিলীপবাবুকে কেন্দ্র করে দলের ভিতরে কর্মীদের মধ্যে যেভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়ছে তাতে রাজ্যে সংগঠনকে ধরে রাখতে গেলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়৷ কারণ, এখন সময় এসেছে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর৷’’