‘চটি চাটা মিডিয়া’কে ‘নমস্কার’ করে দিল্লির পথে শুভেন্দু

0
3526

সুমন বটব্যাল ও পলাশ নস্কর, কলকাতা: দিল্লির পথে রওনা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ যাওয়ার আগে ‘চটি চাটা মিডিয়া’র প্রশ্নের জবাবে শুধু একটি শব্দ খরচ করলেন, ‘নমস্কার’! স্বভাবতই, মিডিয়া-মুখী শুভেন্দুর এহেন ‘পরিবর্তন’ নিয়ে দলের অন্দরেই উঠতে শুরু করেছে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রশ্ন৷ শুভেন্দু কি তাহলে ‘মিডিয়া’কে বয়কট করলেন? নাকি ভবানীপুর নিয়ে যথেষ্ট ‘চাপে’ রয়েছেন বলেই সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে যাচ্ছেন?

আরও পড়ুন: বিচারপতির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ: শুভেন্দুর স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য

সূত্রের খবর: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ‘উপ-নির্বাচনে’ কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বর কার্যত ‘কালঘাম’ ছুটে যাওয়ার জোগাড়৷ কারণ, অনেকেই হতে চাইছেন না প্রার্থী৷ ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এই বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে নিতে দেখা গিয়েছে দলের স্বয়ং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে৷ যার জেরে নির্বাচনের আগেই সংশ্লিষ্ট আসনে দলের অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন দলের একটা সিংহভাগ অংশ৷

আরও পড়ুন:  তৃণমূল নেতার গাড়ি থেকে উদ্ধার প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, প্রশ্নের মুখে শাসকদল

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বর উপ নির্বাচন হতে চলেছে ভবানীপুর বিধানসভা আসনে৷ অপর দুটি বিধানসভা আসনে অবশ্য হবে সাধারণ নির্বাচন৷ কিন্তু বিজেপির সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভবানীপুর আসনটি৷ কারণ, এখানে তৃণমূলের প্রার্থী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিজেপির ঘরোয়া আলোচনায় উঠে আসছে একাধিক নাম৷ অভিনেতা রুদ্রনীলকে এখান থেকে প্রার্থী করার জন্য দলের একাংশ এখনও তৎপর হলেও স্বয়ং রুদ্রনীল জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই, মাননীয়ার বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী না দিয়ে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিততে দিক৷ তাহলে সেটাও বাংলার বুকে রেকর্ড হয়ে থাকবে৷’’

দলের অপর একটি অংশের মতে, মমতাকে ‘চাপে’ ফেলতে ভবানীপুর থেকে প্রার্থী করা হোক শুভেন্দুকে৷ যদিও নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুর যে বিজেপির কাছে ‘সেফ জোন’ নয়, তা তাঁদের ঘরোয়া আলোচনায় উঠে এসেছে বলেই জানা গিয়েছে৷ দলের রাজ্যস্তরের এক নেতার কথায়, ‘‘ভবানীপুরের মতো শক্তঘাঁটিতে মমতার মতো শক্তিশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে শুভেন্দুকে দাঁড় করিয়ে দল হেরে গেলে, সেটা দলের পক্ষে তো বটেই ব্যক্তি শুভেন্দুর পক্ষেও যথেষ্ট অপমানজনক হয়ে দাঁড়াবে৷’’

ভবানীপুরে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্য নেতৃত্বরা বসেছিলেন আলোচনায়৷ সেখানে বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে কাঁকুড়গাছির নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিতের নাম। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় এক কাউন্সিল এবং এক অধ্যাপক৷ সূত্রের খবর: এবিষয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি হবে তা জানার জন্য আজ সন্ধ্যেয় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন শুভেন্দু৷ ৬.৩৫ এর বিমানে তিনি কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন৷ আগামীকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা রয়েছে৷ যদিও এবিষয়ে এদিন কলকাতা ছাড়ার আগে সংবাদ মাধ্যমের কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা যায়নি তাঁকে৷ বরং মুখে এবং হাত দেখিয়ে ‘নমস্কার’ করে হনহনিয়ে বিমান বন্দরের ভিতরে ঢুকে গিয়েছেন শুভেন্দু৷ যা নিয়ে শুরু হয়েছে নয়া জল্পনা৷

প্রসঙ্গত সোমবার বিষ্ণুপুরে দলীয় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যদুভট্ট মঞ্চে ঢোকার মুখে শুভেন্দু অধিকারীকে আদালতের রায় প্রসঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তাঁকে কার্যত মেজাজ হারিয়ে ফেলতে দেখা গিয়েছিল৷ বেশ কর্কশ সুরে শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘কে বলছে? আপনারা চটি চাটা মিডিয়া! এই চিত্রনাট্যের যিনি রূপকার সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁকে গিয়ে প্রশ্ন করুন। তিনি উত্তর দিতে পারবেন।’’

তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ‘‘মতের অমিল হলেই চটি চাটা?’’ দলের একাংশ নেতৃত্বও শুভেন্দুর এহেন মন্তব্য সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি৷ ‘ওঁর ব্যক্তিগত’ বলে এড়িয়ে গিয়েছেন তাঁরা৷ তারপর এদিনের ‘নমস্কার’৷ স্বাভাবিকভাবেই দলের অন্দরেও ঘরোয়া আলোচনায় উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন ও জল্পনা৷ যদিও তার কোনও সদুত্তর মেলেনি নন্দীগ্রামের বিধায়কের কাছ থেকে৷