মমতার হাত ধরতে আপত্তি নেই দিশেহারা বামেদের, ইঙ্গিত দিলেন বিমান বসু

0
147

কলকাতা: ১০ বছরের ব্যবধান৷ ২৩৫ আসনের রের্কড, চৌত্রিশ বছরের মৌরসী পাট্টা এখন এক্কেবারে শূন্যতে পৌঁছেছে৷ একুশের নির্বাচনে যাঁদেরকে সঙ্গী করে বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরাও কার্যত ছন্নছাড়া৷ উলটে ক্রমেই তৃণমূলের আরও কাছাকাছি এগিয়ে আসছে বামেদের জোট সঙ্গী কংগ্রেস৷ এদিকে ২৪ এ লোকসভা নির্বাচন৷ নরেন্দ্র মোদীর ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ সরকারকে ঠেকাতে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা৷ সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক সমীকরণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বামেদের ‘আজন্ম’ শত্রু তৃণমূল৷

আরও পড়ুন: মমতার দাবিকে ‘মান্যতা’ দিয়ে সিপিএমের দলীয় অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু

তাহলে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বামেদের পথ কি হবে? বিজেপিকে ঠেকাতে কি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের হাতই ধরবে বামেরা? সরাসরি নয়, একটু ঘুরিয়ে সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তথা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু যা বলেছেন তাঁর মর্মাথ-হ্যাঁ, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী শক্তি একত্রিত হোক সেটা তাঁরা চান৷ সেখানে তৃণমূল থাকলেও তাতে আর কোনও ছুৎ মার্গ থাকছে না কমিউনিস্টদের৷

আরও পড়ুন:  যুদ্ধবিরতির অবসান, ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষে মৃত্যু যুবকের

অনেকটা মমতাসুলভ ঢঙেই বিমানবাবুর ব্যাখ্যা, ‘‘ বিজেপি তো দেশটা বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে৷ ওদের ষড়যন্ত্রে দেশের মানুষের দুর্দশা বেড়েছে৷ জনবিরোধী এই শক্তিকে থামাতেই হবে৷ সেজন্য সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী ঐক্যে কে থাকল, সেটা বড় ফ্যাক্টর নয়৷ বিজেপিকে রুখে দেওয়াটাই হবে আমাদের সকলের প্রধান লক্ষ্য৷’’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, ঠ্যালার নাম বাবাজী৷ অচিরেই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসও যে তৃণমূলকে সঙ্গী করবে সেটা রবিবারই দলের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ অন্যদিকে আজ থেকে টানা চারদিনের কর্মসূচি নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ২৮ তারিখ বঙ্গ ভবনে একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি৷ ফলে পরিস্থিতি আঁচ করে আগে থাকতেই বিজেপি বিরোধী শক্তিকে থাকতে কৌশলে এই বার্তা প্রকাশ করেছেন বিমানবাবু৷ ক’দিন আগে জেলা সফরে গিয়ে একই মন্তব্য করেছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও৷ স্বভাবতই নিন্দুকেরা টিপ্পনি কেটে বলছেন, মমতার হাত ধরতে এখন আর আপত্তি নেই বামেদের৷