Kolkata : গঙ্গাকে দূষণ মুক্ত করতে বিসর্জনে নয়া পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার

0
24

কলকাতা: মাঝে মাত্র একদিন৷ তারপরই বিসর্জন৷ প্রতিমার দেহ থেকে গলে যাওয়া রং আর সিসায় গঙ্গাজলের রংটাই যেন বদলে যায়! কালের নিয়মে এভাবেই গঙ্গাজলকে কালিমালিপ্ত করে চলার প্রয়াস অব্যাহত৷ ফলে নানাবিধ দূষণে জেরবার গঙ্গা৷ সেই গঙ্গাকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে এবারে দেরিতে হলেও পদক্ষেপ গ্রহণ করল কলকাতা পুরসভা৷

আরও পড়ুন: প্রবাসীদের হাত ধরে লন্ডনের এক খণ্ড জমি যেন হয়ে উঠেছে বাংলার, বাঙালির

কলকাতা পুরসভার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলছেন, ‘‘প্রতিমার দেহ থেকে গলে যাওয়া রং ও সিসা মিশে গঙ্গা জন যাতে নতুন করে আর না দূষিত হয়, তাই দইঘাটে এবারে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ প্রাথমিকভাবে ছোট ঠাকুরগুলো দিয়েই এই নিরীক্ষণ চলবে৷ সফল হলে আগামী বছর থেকে সমগ্র কলকাতায় ও শহরতলির সব ঘাটে এই পদক্ষেপ কার্যকর করার ভাবনা রয়েছে৷’’

কি সেই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ? কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, এবিষয়ে পথ দেখিয়েছিল গত বছরের ত্রিধারা সম্মিলনী। মনোহর পুকুর রোডে মণ্ডপের অদূরে কৃত্রিম জলাধার তৈরি করে ফায়ার ব্রিগেডের হোস পাইপের জলে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়েছিল। এবারে দইঘাটে পরীক্ষামূলক ভাবে তৈরি করা হয়েছে সেই ব্যবস্থা।

তৈরি করা হয়েছে লোহা ও ইটের অস্থায়ী কাঠামো। পাম্পের মাধ্যমে গঙ্গা জল এনে হোস পাইপের মাধ্যমে প্রতিমার রং-মাটি ধুয়ে ফেলা হবে। পরে সেই দূষিত জলকে শোধন করে আবার ফেলা হবে গঙ্গায়। রং, সীসা ধুয়ে ফেলার পর প্রতিমার কাঠামো নিয়ে যাওয়া হবে ধাপায়৷

আপাতত কলকাতার কয়েকটি এলাকার ছোট প্রতিমার বিসর্জনে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদক্ষেপ কাজে লাগাতে চাইছে পুরসভা৷ সফলতা মিললে আগামীদিনে সমগ্র কলকাতাতেই বাধ্যতামূলকভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে৷ অর্থাৎ প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে আর সরাসরি গঙ্গায় ভাসান করা যাবে না৷ উদ্দেশ্য একটাই, দূষণে জেরবার গঙ্গাকে নতুন করে দূষিত হতে না দেওয়া৷