EXCLUSIVE: এখানে আইনের শাসন নেই, তৃণমূলের ঝাণ্ডাই শেষ কথা’ : আন্দোলনে মৎস্যজীবীরা

0
21

হরিশ্চন্দ্রপুর: আইন থেকেও নেই৷ শুধু তৃণমূলের ঝাণ্ডা থাকলেই হবে৷ তবে প্রভাবশালীর ‘ঘনিষ্ঠ’ হওয়া চাই৷ না হলে আপনি সে যত পুরনো দিনের তৃণমূল কর্মীই হোন না কেন, পাত্তাও পাবেন না অধুনা তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরা দাদাদের কাছে৷ এমনটাই অভিযোগ মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ২ ব্লকের ভালুকা বাজার এলাকার মৎস্যজীবীদের৷

আরও পড়ুন: EXCLUSIVE: দামোদরের ‘নিরীহ’ বালি কিভাবে হয়ে উঠেছিল বেআইনি থেকে ‘আইনি’

সরকারি ভাবে যাদের মাছ ধরার হক রয়েছে, তাঁদেরকে হঠিয়ে দিয়ে রীতিমতো লাঠি, বল্লম নিয়ে হাজির হয়ে নদীর ধার দিয়ে বাঁধ বরাবর তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে জাল দিয়ে ঘিরে সেখানে মাছ ধরা শুরু করেছে তৃণমূলের একদল কর্মী সমর্থক। পরোয়া নেই সরকারি নির্দেশের। পরোয়া নেই ১৪৪ ধারার। দিব্যি নদী দখল করে মাছ চাষ করে ব্যবসা চলছে। নদীর ধারে কাছে যেতে পারছে না এলাকার ৫০০ মাছ চাষি। তাঁদের রোজগার সম্পুর্ন বন্ধ। প্রায় না খেয়েই কাটছে দিন।

আরও পড়ুন: EXCLUSIVE: বালি চুরি কাণ্ডে এবার পুলিশের নজরে রেলের পদস্থ আধিকারিক

গত একমাস ধরে এভাবেই চলছে। বিডিও বা থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি। কেউ দেখতেও আসেনি তাঁদের। বুধবার এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন শতাধিক মৎস্যজীবী।

ফুলহার নদীর একটা অংশ বাঁধের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে। এই এলাকার ৫০০ মাছ চাষি এই নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করে সংসার চালান। বাঁধ লাগোয়া নদীর এই অংশ একরকম ভেরির মত হয়ে থাকে৷ এখানে প্রচুর মাছ থাকে। আর সেই অংশের দখল নিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেয় বহু প্রভাবশালীরা। বহুবার এই নিয়ে গোলমাল,সংঘর্ষ হয়েছে। বিষয়টি রাজ্যপাল পর্যন্ত যায়। এরপর বহু বছর আগে এলাকার ৫০০ মাছ চাষির পরিবারকে ওই এলাকায় মাছ চাষ করার অধিকার দিয়ে চিঠি দেয় এসডিও। অনুমতি দেন রাজ্যপাল। পাশাপাশি ওই এলাকায় একে একে সুশৃঙ্খল ভাবে মাছ ধরার জন্যে ১৪৪ ধারা করে দেওয়া হয়। যাতে ভিড় করে গোলমাল বাঁধাতে কেউ না পারে।

চাষিদের অভিযোগ, সব ঠিকঠাকই চলছিল৷ গত একমাস ধরে আচমকায় প্রভাবশালীদের ‘দাপটে’ ‘জোর যার মুলুক তার’ স্টাইলে সব পালটে যেতে শুরু করেছে৷ অভিযোগ,
৫০০ মাছ চাষির পরিবারকে সম্পুর্ন রোজগারহীন করে তৃণমূলের পতকা লাগিয়ে নদীর দখল নিল তৃণমূলের নেতা- কর্মীরা। ফলে মাছ চাষিরাই বঞ্চিত মাছ চাষ থেকে। অথচ মাছ চাষিদের ওই নদীতে মাছ চাষ করার অনুমতি দিয়েছে রাজ্যপাল থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন।এমনকি গোলমাল হওয়ায় সেখানে ১৪৪ ধারাও রয়েছে। দখলকারীরা অবশ্য দাপটের সঙ্গেই বলছেন, ‘‘তৃণমূল করি। তাই পতাকা লাগিয়ে এলাকা ঘিরে নদীতে মাছ চাষ করছি৷ কারও কিছু করার থাকলে করে নিক৷’’

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। ‘‘এসব আসলে গৃহযুদ্ধের সূচনা’’ কটাক্ষের সুর বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডলের। অন্যদিকে ঘটনার ‘সত্যতা’ স্বীকার করে নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হজরত আলি বলেন, ‘‘একদল মানুষ তৃণমূল পরিচয় দিয়ে দলের বদনাম করছে। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর। প্রশাসনকে বলেছি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে৷’’ ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়টি সম্পর্কে অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি প্রশাসনিক কর্তাদের৷