প্রতিটা ভোট আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আমার জেতাটা জরুরি: ক্ষমা চেয়ে বললেন মমতা

0
43

কলকাতা: ভবানীপুরের উপ নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বিশদে ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বললেন, ‘‘নানা রকম চক্রান্ত চলছে৷ আসলে আমার জেতাটা জরুরি, যেকোনও একটা আসন থেকে আমাকে জিতে আসতে হবে৷ তাই আপনাদের প্রত্যেকটা ভোট আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷ আপনাদের প্রত্যেকটা ভোট আমার কাছে আর্শীবাদ৷’’

আরও পড়ুন: নজরে ভবানীপুর: বুধে মমতার শক্তঘাঁটি থেকেই ব্যাটিং করতে নামছেন সুকান্ত মজুমদার

কেন একথা বলছেন, এদিন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রার্থী মমতা৷ বলেছেন, ‘‘উপ নির্বাচনে অনেকে ভোট দিতে যান না৷ ভাবেন, দিদি তো এমনিতেই জিতে যাবেন৷ দিয়ে হয়তো অনেকে ভোটই দিতে গেলেন না! তাই বলছি, আপনাদের প্রতিটা ভোট আমার কাছে আর্শীবাদ৷’’ অভিযোগ করেছেন, চক্রান্ত চলছে৷ নানা ভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে৷ কি সেই ‘চক্রান্ত’ তা বিশদে না বললেও এলাকার ভোটারদের প্রতি নেত্রী আর্জি, ‘‘কোনও রকম প্ররোচনায় পা দেবেন না৷ মাথা ঠাণ্ডা রেখে নিজের ভোট নিজে দিন৷’’

আরও পড়ুন: বুধের পর বৃহস্পতি, প্রচারে বেরিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী

কোভিড বিধি মেনেই এদিন চেতলায় সভার আয়োজন করা হয়েছিল৷ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মাইনে নিই না, আমি আপনাদের পাহারাদার৷ একই সঙ্গে বলেছেন, ‘‘দক্ষিণ কলকাতা থেকে ছ’বার সাংসদ হয়েছি৷ আপনারা চেয়েছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে৷ আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ৷’’ এই তথ্যকে সামনে রেখে এরপরই একহাত নিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের৷ নেত্রীর মুখে শোনা গিয়েছেন, ‘‘ভবানীপুরের মাটি তোমরা চেনো না৷ এই মাটি আমার চেনা মাটি৷ আমি এই মাটিতেই জন্মেছি৷ এই মাটি নেতাজির মাটি৷ এই মাটি কখনও বেইমানি করে না৷’’

নিজস্ব ঢঙে এদিন প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নিতে দেখা গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বলেছেন, ‘‘আমার কোনও কাজ ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন৷’’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন, ‘‘যে কাজ করে তারই ভুল হয়৷ আর ক্ষমা সেই চাইতে পারে যার সেই মহানুভবতা থাকে৷’’

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুরে উপ নির্বাচন৷ লড়াইয়ের ময়দানে মমতার মুখোমুখি প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল৷ ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি বদল হওয়ার পর ভবানীপুরকে সামনে রেখে নতুন উদ্যমে নেমে পড়ছে গেরুয়া শিবির৷ বুধবারই এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, ‘‘তৃণমূল ভয় পেয়েছে, তাই ভবানীপুরে অপ্রকৃতিস্থ আচরণ করছে৷’’

তারপরই চেতলার কর্মী সভা থেকে নেত্রীর কাতর আর্জি নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য বলছেন, সবটাই ভোট বৈতরণী পার হওয়ার টেকনিক৷ উপ নির্বাচনে ভোট পড়ার শতাংশের হার অনেকটাই কম থাকে৷ সেক্ষেত্রে ভোট কম পড়লে আদতে তৃণমূলের ক্ষতি হতে পারে৷ তাই অভিজ্ঞ রাজনীতিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জয়ের বিষয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ৷ তাই এই কৌশল৷