কুঁড়ে ঘরে থাকেন, ইলেকট্রিকের বিল এল ১ লক্ষ টাকা

0
331
প্রতিকী ছবি

মেদিনীপুর: কোনো মতে চলে সংসার৷ এক বেলা খেলে অন্য বেলা হয়তো জল পান করে দিন কাটাতে হয়৷ বাস ছোটো কুঁড়ে ঘরে৷ সেই ঘরে হয়তো একটা বাল্ব আর একটা ছোটো পাখা৷ সেই ঘরগুলিতে নাকি মাসে ইলেকট্রিক বিল ৪০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা৷ এই ভুতুড়ে বিল দেখে রীতিমতো হতভম্ব মেদিনীপুর সদর ব্লকের বেনাশুলি গ্রামের বাসিন্দারা৷

জঙ্গলের মধ্যে ছোটো ছোটো বাড়িতে বাস ৩০০ টি পরিবারের৷ এই পরিবারগুলির জীবিকা বলতে জঙ্গল থেকে কাঠ-পাতা কুড়িয়ে সেইগুলি বিক্রি৷ তাঁদের গত এক মাসে কারোর ৪০ হাজার টাকা আবার কারোর ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল এসেছে৷ এমনটাই অভিযোগ ওই ৩০০ টি পরিবারের৷

তাঁদের কথায়, ২০০৯ সালে মাওবাদীদের সমস্যা শুরু হলে অনেকে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন৷ কিছু পরিবার থাকলেও তাঁদের কাছে কোনো বিদ্যুৎ বিল পাননি৷ এমনকি কোনো সরকারি অভিযোগ পাননি বলেও অভিযোগ৷ পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাসিন্দারা ফিরে আসেন ওই এলাকায়৷

এরপর ওই এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা যাওয়া শুরু করেন৷ তাঁরা ওই পরিবারগুলিকে প্রতিমাসে বিল দেওয়া শুরু করে৷ সব ঠিক ছিল কিন্তু ফের করোনা কালে আবার ভাটা পড়ে যায়৷ অভিযোগ, সম্প্রতি সেই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতেই বেনাশুলী গ্রামের ওই বাসিন্দাদের হাতে লক্ষ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর৷

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘করোনার সময় থেকে আমারা অনেকে বেকার হয়ে পড়ি৷ সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছি৷ এই পরিস্থিতিতে বকেয়া বিলের বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে বিদ্যুৎ দফতর৷ এই পরিস্থিতিতে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সারা বাংলা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি৷ সমস্যার সমাধান হলেই ঠিক আছে, না হলে কি করব জানি না৷’’

সারা বাংলা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির এক সদস্য জানান, গ্রামবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন কোনো বিদ্যুৎ-এর বিল আসেনি৷ ফলত বকেয়া বিলে টাকার অঙ্কটা বেড়ে গিয়েছে৷ কিন্তু এটাও ঠিক এই ৩০০ পরিবারের পক্ষে এতো গুলো টাকা এক বারে দেওয়া সম্ভব না৷ তাই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের পথ বের করতে হবে৷