বিজেপি-তে কার্যসিদ্ধি করতে না পেরে দল ছেড়েছে অর্জুন, দাবি দিলীপের

0
42

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজনীতিতে বোমা বাধাটা বাংলায় স্বাভাবিক ঘটনা৷ অর্জুন সিং-এর মতো এরকম অনেককেই বিজেপিতে নেওয়া হয়েছিল৷ যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন তাঁদের পক্ষে গেরুয়া শিবিরে থাকাটা অনেক কঠিন৷ যারা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন না তাঁদের পক্ষে বিজেপিতে থাকা মুশকিল৷ তাই অর্জুনের মতো যারা মানিয়ে নিয়ে থাকতে পারছেন না, তাঁরা তৃণমূলে চলে যাচ্ছেন৷ প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং-এর তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ৷

সোমবার সকালে তিনি নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘‘অনেকে বিজেপিতে এসেছিল, বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে৷ এখন দেখছে দলে থেকে কার্যসিদ্ধি করতে পারছে না, অসুবিধা হচ্ছে তাই সব দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন৷ যখন ক্ষমতার কাছাকাছি দল যায় তখন অনেক লোক আসে৷ ক্ষমতার অলিন্দে সবাই থাকতে চায়৷ কিন্তু দল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই তখনই তাঁরা বিজেপি ছেড়ে পালিয়ে যায়৷’’

সোমবার দিল্লিতে বিজেপির বৈঠক প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘দিল্লিতে সাংগঠনিক ও পার্লামেন্টারি বৈঠক আছে৷ তাই সোম., মঙ্গল ও বুধবার আমি দিল্লিতে থাকব৷’’ অর্জুন সিং সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘সেটা ওনার ব্যক্তিগত ব্যাপার, নৈতিকতার ব্যাপার৷ দল ছাড়লেন, প্রতীক ছাড়লেন, পদটাও ছাড়া উচিত৷ রাজনীতির মধ্যে নৈতিকতা নীতি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে৷ এইভাবে দলের লাভ-ক্ষতির চেয়ে রাজনীতির ক্ষতি বেশি হয়৷’’

অর্জুন সিং-এর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নিজের বিষয়ে দিলীপ বললেন, ‘‘উনি রাজ্য বিজেপির একজন নেতা ছিলেন৷ গত এক বছরে ৬০ জনের বেশি কর্মী বাংলায় খুন হয়েছে। উনি কিছু না কিছু তো করেছেন তাই তিনি নিজে টার্গেট হয়েছেন৷ একশোর বেশি কেস তার ওপরে হয়েছে৷ আমার ওপরে বাংলার সমস্ত কোর্টে কেস আছে৷ বিজেপি যদি কিছু না করত তাহলে দল টার্গেট হত না৷ বিজেপি বাংলায় বিরোধী দল হত না।’’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপিতে এই ভাঙ্গন প্রসঙ্গে দিলীপ বাবুর কথায়, ‘‘দলে ভাঙ্গন
সারা বছর হচ্ছে৷ গত এক বছর ধরে আমরা এই ধরনের পরিস্থিতির সহ্য করেছি৷ অনেকে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে ভেবে দলে যোগ দিয়েছিলেন৷ যখন দেখছে সেটা হয়নি তখনই তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন৷ আমি আবার বলছি দল যারা দাঁড় করিয়েছেন তাঁদের জন্য ২০১৯ সাল থেকে দল দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করেছে৷ সেই সমস্ত কর্মীরা আছেন, তাদেরকে পিছনে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। যাদেরকে সামনে আনা হয়েছিল তারাই বিজেপি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।’’