29 C
Kolkata
Tuesday, September 28, 2021
Home খাস পলিটিক্স জমিয়েতে-এসইউসির গড়া জমি আন্দোলন কার্যত ‘হ্যাইজ্যাক’ করেছিল তৃণমূল

জমিয়েতে-এসইউসির গড়া জমি আন্দোলন কার্যত ‘হ্যাইজ্যাক’ করেছিল তৃণমূল

রানা দাস-এক্সিকিউটিভ এডিটর, খাস খবর

- Advertisement -

(বাংলার পরিবর্তনের পীঠস্থান বলা হয় এই সব এলাকাকে৷ এমনই কিছু স্থান হল নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, নেতাই, জঙ্গলমহল৷ বাংলায় পরিবর্তনের সময়কালে এসব এলাকায় ঠিক কী ঘটেছিল? কী ছিল সেই সব ঘটনার অন্দরে৷ সেই সময়কালে এই সমস্ত অন্দরের কাহিনি নিয়েই আমাদের এই বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদন বাংলার রণভূমে রানার’ সেই সমস্ত ঘটনা খুব কাজ থেকে প্রত্যক্ষ করা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন ‘খাস খবর’-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর রানা দাস)

3 জানুয়ারি, 2007। বেলা তখন একটা-দেড়টা হবে। আমার স্ত্রীর ১০২ জ্বর। তমলুকে থাকি। মোবাইলে খবর এল, নন্দীগ্রামে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। এর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান পত্রিকার বর্ধমান ব্যুরো অফিস থেকে পুলকেশদার (পুলকেশ ঘোষ) ফোন। ওনাকে বললাম নন্দীগ্রামে গুলির খবরটা। আমাকে উনি বললেন, এখুনি বেরিয়ে যাও। আমি আমার স্ত্রীর প্রচণ্ড জ্বরের কথাটা বললাম। এটাও বললাম, গোটা ঘটনাটা আমি তমলুক থেকে করে দিতে পারব। পুলকেশদার একটাই কথা… “দেখি তোমার চাকরি কী করে থাকে।” বলেই ল্যান্ডফোনটা খটাস করে রেখে দিলেন। সংবাদমাধ্যমের চাকরি, কোনও দিন স্থায়ী হয় না। অগ্যতা হাড় কাঁপানো ওই শীতে বেরিয়ে পড়লাম নন্দীগ্রামের দিকে। একটা অ্যাম্বাসাডর ভাড়া করে আমি, কলকাতা টিভির পাবক সাহু, কাজল মাইতি আর এনই বাংলার জেলা সংবাদদাতা শুভময় জানার সঙ্গে রওনা দিলাম নন্দীগ্রাম।

- Advertisement -

আগের কিস্তি পড়তে ক্লিক করুন: নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সূচনায় তৃণমূলের কোনও ভূমিকা ছিল না

এদিন সকালে বর্তমান পত্রিকায় আমারই পাঠানো একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল৷ তাতে বলা ছিল, ৩ জানুয়ারি হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এইচডিএ) পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ করার নোটিশ ঝোলাতে যাবে৷ সকালেই এই সংবাদটি দেখেই গোটা নন্দীগ্রাম অপেক্ষা করছিল, কখন নোটিশ ঝোলাতে আসে৷ বেলার দিকে সেই নোটিশ ঝোলাতে গিয়েছিল এইচডিএ’র কর্মীরা৷ সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ তারা গড়চক্রবেড়িয়াতে যেতেই সাধারণ মানুষের কাছে বাধা পায়৷ এই গড়চক্রবেড়িয়া ছিল সিপিএমের শক্তঘাঁটি৷ এখানে সিপিএম ছাড়া অন্য কোন দলের কোন সমর্থক ছিল না৷ কিন্তু, সেই গড়চক্রবেড়িয়াতেই প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়েছে লক্ষণ শেঠের এইচডিএ কর্মী এবং পুলিশ প্রশাসনকে৷ পুলিশ ক্ষুণ্ণাক্ষরে টের পায়নি, জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে মানুষ এতটা ক্ষোভের মধ্যে রয়েছে৷ প্রতিবাদে তুষের আগুন জ্বলছিল লক্ষ্ণণের ডেরায়৷ পুলিশকে ঠেকাতে নন্দীগ্রামে গরিব মানুষগুলো এককাট্টা হয়ে প্রতিরোধ করে৷ পুলিশের জিপে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ বাধ্য হয়ে পুলিশকে পালিয়ে আসতে হয়৷ শুধু তাই নয়, পুলিশের বন্দুকও ছিনতাই হয়েছিল৷

- Advertisement -

নন্দীগ্রাম থানা, বিডিও অফিস এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ডানদিকে রেখে গোকুলনগরের রাস্তা ধরে কিছুটা গিয়ে, বাঁদিকে একটা কাঁচা রাস্তার ধরে এগিয়ে চললাম গড়চক্রবেড়িয়ার দিকে৷ সরস্বতী বাজার, বঙ্কিম মোড় পার করে গড়চক্রবেড়িয়া কিছুটা আগেই একটি কালভার্ট পড়ে। দেখতে পেলাম, পুলিশের গ্রামে ঢোকা রুখতে সেই কালভার্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সামনে পড়ে রয়েছ সদ্য কাটা গাছের গুড়ি৷ গাড়ি নিয়ে আর পথ এগোনো সম্ভব নয়৷ শীতকাল, সূর্য প্রায় অস্তমিত হয়েছে৷ সেখানেই গাড়ি ছেড়ে দিতে হল৷ ড্রাইভারকে বললাম, নন্দীগ্রাম থানায় ফিরে যেতে৷ আমরা সবাই হেঁটেই ভাঙা কালভার্ট পার করে গড়চক্রবেড়িয়ার দিকে এগোলাম৷ যত এগোচ্ছি, আর অবাক হচ্ছি৷ রাস্তায় পড়ে রয়েছে গাছের গুড়ি৷ তখনও রাস্তাঘাট তেমন কাটা হয়নি৷ অবশেষে হেঁটেই পৌঁছলাম গড়চক্রবেড়িয়ার ঘটনাস্থলে৷

ঘটনাস্থল গড়চক্রবেড়িয়াতে গিয়ে দেখলাম নভেম্বর থেকে জানুয়ারি, নন্দীগ্রামের আন্দোলনটা বেশ একটা বড় জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। দেখলাম উত্তেজিত মানুষ কীভাবে পুলিশকে খেদিয়েছে নিজেদের বাস্তুভিটা রক্ষা করার জন্য। পুলিশ-প্রশাসনের ঢোকা আটকাতে চারপাশে রাস্তাঘাট কেটে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার উপর ফেলে রাখা হয়েছে বড় বড় গাছের গুঁড়ি। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ৷ গড়চক্রবেড়িয়া থেকে হাজরাকাটা যাওয়ার পথে পুলিশের জিপ উলটে রয়েছে৷ ধিকি ধিকি করে আগুন জ্বলছে পুলিশ জিপে৷ এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে পুরো ঘটনাটি ওদের মুখ থেকে দেখার চেষ্টা করলাম৷ খরব সংগ্রহ করতে করতে কখন রাত ১০টা বেজে গিয়েছে, খেয়াল হয়নি৷ গোটা এলাকা ঘুরে সরস্বতী বাজারে একটা এসডিটি বুথ খুঁজে বের করালাম৷ সেখান থেকেই বর্ধমান অফিসে পুলকেশদাকে ফোন করে সেদিনের খবরের শেষ আপডেটটা ধরালাম৷ খবর লিখে পাঠানোর মতো অবস্থায় ছিলাম না৷ তাই পুলকেশদা আমার মুখ থেকে গল্পের আকারে পুরো ঘটনাটি জেনে নিলেন৷ বললেন, তুমি বল যাও, আমি কপি লিখে নেব৷ সব কথা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শুনলেন৷ অফিসে যখন ফোনে শেষ খবরটা ধরালাম, তখন রাত সাড়ে দশটা পার হয়ে গিয়েছে৷ প্রায় ১১টা নাগাদ হবে৷ পুলকেশদা বললেন, আজকের মতো তমলুকে ফিরে যাও নাকি? এলাকার পরিস্থিতি দেখে ওনাকে বললাম, না আমি যাচ্ছি না, কাল সকালে তো আবার আসতেই হবে।

শীতের রাতে কোথায় থাকব, কী খেয়ে রাত কাটবে৷ চারদিকে অন্ধকার৷ সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নন্দীগ্রামের দিকে রওনা দিলাম আমরা সবাই৷ ফোন করে গাড়িকে এগিয়ে আসতে বললাম৷ কিছুদিন আসার পর মোবাইলে ড্রাইভার জানাল, দাদা বহু জায়গা রাস্তা কাটা৷ আর এগোনো যাচ্ছে না৷ ফলে আমাদের সবাইকে হেঁটেই যেত হল৷ বঙ্গিম মোড়ের এসটিডি বুথে পরিচয় হল খুশ মহম্মদ নামে এক যুবকের সঙ্গে৷ বর্তমান পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আমার মোবাইল নম্বর জেনে নিলেন৷ তাঁর নম্বর দিয়ে জানালেন, রাতে গ্রামে কিছু হলে ফোন করে জানাবেন৷ আমরা হেঁটেই নন্দীগ্রাম থানায় এসে পৌঁছলাম৷ আমার ক্যামেরাম্যান পার্থপ্রতিম দাসকে বললাম, তমলুকে ফিরে যেতে৷ পরদিন সকালে আসতে বললাম৷ আমি, পাবক আর কাজল নন্দীগ্রামেই থেকে গেলাম৷ থানায় গিয়ে দেখি, ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারি এসে পৌঁছেছেন৷ ওসির সঙ্গে কথা বলছেন৷ আরও কিছু পুলিশ কর্তা তখন থানায় বসে৷ পুলিশের একটাই অনুরোধ৷ তাদের খোয়া যাওয়া একটি বন্দুক ফেরত দেওয়ার জন্য৷ শুভেন্দু কথা দিয়েছিলেন, পুলিশের বন্দুক ফিরিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা করে দেবেন৷

এসবের মধ্যেই রাত গভীর হয়েছে৷ আমরা রাতে কোথায় থাকব৷ কী খাব? এই সব চিন্তা করছি৷ থানার পাশেই বিডিও অফিসের সামনে এসব আলোচনা করছি৷ আমাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই জুড়েছেন এনডিটিভির কলকাতার রিপোর্টার সৌরভ স্যানাল এবং তাঁর ক্যামেরাম্যান৷ আমিই উদ্যোগ নিয়ে বিডিও-কে ফোন করে আমাদের থাকার সমস্যার কথা বললাম৷ তিনি বললেন, চিন্তা করবেন না৷ বিডিও অফিসের উপরে একটা হল ঘর আছে৷ সেখানেই রাতটা কাটাতে পারেন৷ সেখানেই গ্রামবাসীদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের ত্রিপল আছে৷ তা মেঝেতে পেতে শুতে হবে৷ গায়ে কিছু দেওয়ার মতো ব্যবস্থা করতে পারবেন না৷ আমরা এটুকু ব্যবস্থা করতে পেরেই নিশ্চিন্ত৷ রাতটা অন্তত খোলা আকাশের নীচে কাটাতে হবে না৷ তবে, রাতে খাব কী? বিডিও অফিসের সামনে একটা চায়ের দোকান ছিল৷ সেই চায়ের দোকানদারের সঙ্গে পরিচয় হল৷ তাঁর নাম গৌরদা৷ বিডিও অফিসে চা- সরবরাহ করেন৷ বিডিও অফিসে আসা লোকজনকে চা-বিস্কুট বিক্রি করেন৷ রাতে একটু খাবার ব্যবস্থা করা সম্ভব কিনা, এটা বলতেই গৌরদা বললেন, আমি শুধু ডিমের ঝোল ভাতের ব্যবস্থা করে দিতে পারি৷ তাঁকে একটু সময় দিতে হবে৷ সেই রাতের গরম দরম ডিমের পাতলা ঝোল আর গরম ভাত যেন অমৃতের মতো ছিল৷ সেই রাত থেকেই রাতারাতি গৌরদার চায়ের দোকান হোটেল হয়ে গিয়েছিল৷ পরদিন থেকে তিনি ভাতের হোটেল করে ফেলেছিলেন৷ কারণ নন্দীগ্রামে ধীরে ধীরে সংবাদমাধ্যমের ভিড় বাড়তে শুরু করল৷ তারা সবাই গৌরদার হোটলেই খাবার খেতেন৷ একটা চায়ের দোকান কী করে বড় একটা হোটেল হয়ে গিয়েছিল, সেটা পরে নন্দীগ্রামে দেখেছি৷

যাক সে কথা৷ রাতে খাওয়া সেরে আমরা বিডিও অফিসে সেই হল ঘরে আশ্রয় নিতে গেলাম৷ কারও চোখে ঘুম নেই৷ এরই মধ্যে খবর এল নন্দীগ্রামে ঢুকে খেজুরি থানার হেঁড়িয়া পুলিশ ফাঁড়িতে প্রচুর পুলিশ জড়ো করা হচ্ছে৷ আমাদের গাড়ি ছিল না৷ তাই এনডিটিভির গাড়িতে করেই আমরা বিডিও অফিস থেকে বেরিয়ে হেঁড়িয়ার দিকে গেলাম৷ গিয়ে দেখা গেল, খবরটা ভুল ছিল৷ ফাঁড়ির সামনে ফাঁকা শুনশান৷ এরই মধ্যে এনডিটিভির রিপোর্টার সৌরভ স্যানাল বললেন, কাল সকালের প্রথম বুলেটিনের জন্য এক্সক্লুসিভ কিছু ফুটেজ দরকার৷ কি করা যায়, সেটাই ভাবছিলেন৷ আমাদের সেই কথা বলছিলেন৷ আমি বললাম, চিন্তা করো না৷ ব্যবস্থা করে দিচ্ছি৷ রাত আড়াইটে-তিনটে হবে৷ মোবাইলে ফোন করলাম বঙ্কিম মোড়ে পরিচয় হওয়া খুশ মহম্মদকে৷ বললাম টিভিতে দেখাবে, ভালো ছবি চাই৷ ব্যবস্থা করতে পারবেন? বললেন, আমরা গ্রামবাসীরা সবাই জেগেই আছি৷ আমাদের বঙ্গিম মোড়়ের দিকে যেতে বললেন৷ আমি ওই রাতে গাড়ি নিয়ে ছুটলাম বঙ্কিম মোড়ের দিকে৷ কিছুটা যেতেই দেখলাম, খুশ মহম্মদ গ্রামবাসীদের জড়ো করে দাঁড়িয়ে আছে৷ আমাদের গাড়ি হেডলাইটে দেখতে পেলাম প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছেন৷ আমাদের গাড়ি থামতেই গ্রামবাসীরা কোদাল হাতে রাস্তা কাটতে শুরু করলেন৷ খড়ের বিচুলি জড়ো করে তাতে আগুন ধরালেন৷ রাস্তা কাটার ভিডিও ফুটেজ তুলেছিল কলকাতা টিভি এবং এনডিটিভির ক্যামেরাম্যান৷ দাউ দাউ করা জ্বলতে থাকা খড়ের আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে পি টি সি দিলেন সৌরভদা৷ খবরের ভাষায় এক্সক্লুসিভ ভিডিও ফুটেজ পেল তারা৷

সেই ৩ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে গিয়ে ২২ দিন পর তমলুকে ফিরেছিলাম। পরদিন কাজের শেষে পলাশ নামে স্থানীয় এক যুবককে সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম৷ নন্দীগ্রাম বাজারে একটা ঘরভাড়া নিয়ে। শীতের রাত, তাই পলাশ নামে ওই স্থানীয় যুবক ডেকরেটর থেকে তোশক-লেপ ভাড়ায় জোগাড় করে দিয়েছিল। আমি-পাবক টানা ওই ঘরেই কাটিয়েছিলাম। সেই ৩ জানুয়ারিতে এলাকায় পুলিশের ঢোকা বন্ধ হল। আর কোনওভাবেই পুলিশ নন্দীগ্রামে ঢুকতে পারেনি। খেজুরি এবং নন্দীগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করা তালপাটি খাল অনেক অজানা ঘটনার সাক্ষী৷ ৬ জানুয়ারি ভোররাতে সেই খালের ধারে ভাঙাবেড়া ব্রিজে সিপিএমের লোকেদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল সেখ সেলিম সহ আরও তিন কিশোর-যুবক৷ এই ঘটনার পিছনে বিশাল একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা রয়েছে৷ কেন সেদিন জমি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সিপিএমের লোকেদের গোলাগুলির ঘটনা হয়েছিল, তা পরের পর্বে লিখব৷ তবে, ৬ জানুয়ারি ভোরের ঘটনা হলে, সেটিকে ৭ জানুয়ারির ঘটনা হিসেবেই দেখা হয়৷ সেই ঘটনার দিনই নন্দীগ্রাম এতিম খানায় আলোচনায় বসেন জমি আন্দোলনকারীরা৷ এতদিন এই আন্দোলন অসংগঠিতভাবেই হচ্ছিল৷ তেমন কোন লিখিত নেতৃত্ব ছিল না৷ আন্দোলনকে সংগঠিত করতেই এতিমখানায় বৈঠকে বসা হয়৷ ঘটনাচক্রে সেই বৈঠকটিকে সামনে থেকে দেখেছি৷ এতদিন মূলত এই আন্দোলনটি ছিল সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির জমিয়তে উলামেয় হিন্দ এবং এস ইউ সি আই সহ বেশ কিছু অতি বামপন্থী সংগঠনের৷ সেদিন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির সভাপতিত্বে বৈঠকটি হয়৷ বৈঠকে নকশাল নেতা সন্তোষ রানা, জমিয়তের কাজি সফিউদ্দিন, স্থানীয় তৃণমূল নেতা আবু তাহের, সেখ সুফিয়ান, জমিয়তের আবদুস সামাদ, এস ইউ সি আইয়ে ভবানীপ্রসাদ দাস, কংগ্রেসের মিলন মণ্ডল, সবুজ মণ্ডল সহ আরও বেশ কিছু বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং গণসংগঠনের নেতারা হাজির ছিলেন৷

সেদিন এতিমখানার বৈঠকেই গঠন করা ‘নন্দীগ্রাম ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি’৷ এই কমিটিই নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের জন্য আগামীদিকে রূপরেখা তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়৷ কোনভাবেই নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন তৃণমূলের ছিল না৷ কমিটিতে ছিল না শুভেন্দু অধিকারির নামও। মূলত আন্দোলনের রাশ ছিল এসইউসি এবং জমিয়তের হাতের৷ পিছনে মদত ছিল নকশাল সংগঠনের৷ এই কমিটি গঠন হওয়ার খবর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছয়৷ তারপরই তৃণমূল নেত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরিকে অনুরোধ করেন শুভেন্দুকে নন্দীগ্রাম ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি’ রাখতে৷ তৃণমূল নেত্রীকে সম্মান জানাতেই সিদ্দিকুল্লা সাহেব শুভেন্দুকে কমিটিতে যুক্ত করেন৷ এই কথা সিদ্দিকুল্লা সাহেব নিজেই আমাকে বলেছিলেন৷ নন্দীগ্রামের জমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির আন্দোলনে সেই তৃণমূলের যুক্ত হওয়া৷ তারপরেই নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনেরক রাশ ধরে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এক কথায় বলা যায়, জমিয়েতে-এসইউসির গড়া নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন কার্যত ‘হ্যাইজ্যাক’ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷
(আরও আগামী পর্বে)

- Advertisement -

সপ্তাহের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ

ইশা সাহার বিয়েতে কেন নিমন্ত্রন পেলেন না- প্রশ্ন মিমি চক্রবর্তীর

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী ইশা সাহা কে সরাসরি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। ইশা একটি ভিডিও দেখে মিমির প্রশ্ন 'বিয়েতে ডাকলি...

আইআইটির ছাত্র হয়েও ঐচ্ছিক বিষয় ছিল নৃতত্ব, UPSC-র শীর্ষে শুভম

খাস খবর ডেস্ক: টানা তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম। আর তাতেই অবশেষে লক্ষ্যভেদ করলেন বিহারের শুভম কুমার। শুক্রবার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস ২০২০ পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনো...

‘মিঠাই’ সৌমিতৃষার মা কে ফোন করবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

অর্পিতা দাস: মিঠাই রানী যেখানেই যান কথা দিয়ে সকলের মন ভালো করে দেন, এবার মোদক পরিবার কে নিয়ে মিঠাই পৌঁছে গেলেন দাদাগিরির সেটে। তবে...

টাকার লোভে স্বামীর সঙ্গে কিশোরীদের সঙ্গমে বাধ্য করেন স্ত্রী

খাস খবর ডেস্ক: উচ্চ পদস্থ চাকরি করেন স্বামী। সরকারি দফতরের পদস্থ আধিকারিক। সেই ব্যক্তির স্ত্রী টাকার লোভে স্বামীর বিছানায় পাঠায় অন্য মহিলা। যাদের সকলের...

খবর এই মুহূর্তে

দরজা খুলতেই ছুটে এল গুলি, মৃত এক, জখম দুই, চাঞ্চল্য এলাকায়

রায়গঞ্জ: ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত প্রায় ১০টা৷ অসময়ে বেজে উঠল কলিংবেলটা৷ অ্যাতো রাতে কে এল, কি দরকার- সাত, পাঁচ ভাবতে ভাবতে তাড়াহুড়োয় দরজা খুলতেই ওপাশ...

বিজেপির নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘নারীদের ক্ষমতায়ন’: JP Nadda

নয়াদিল্লি: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফের একবার ভারতে ক্ষমতায় আসাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। সেই লড়াইয়ের প্রস্ততি শুরু হয়ে গিয়েছে এখন থেকেই। আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে...

কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সহ ১৪৪ ধারা জারি করে ভোট হোক ভবানীপুরে, দাবি বিজেপির

কলকাতা: ভবানীপুরে শেষ লগ্নের প্রচার যুদ্ধ দিয়েই শেষ হয়েছে সোমবার। আর মাত্র দু রাতের অপেক্ষা তার পরেই হতে চলেছে হটস্পট ভবানীপুরে উপ নির্বাচন যা...

রুদ্রর জীবনে অন্য নারী- মেনে নিচ্ছেন না মিঠাই অনুরাগীরা

অর্পিতা দাস: জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক মিঠাইতে দর্শকদের অন্যতম প্রিয় জুটি রুদ্র এবং নীপা। রুদ্রর জীবনে অন্য কোন নারী? কিছুতেই মেনে নিচ্ছেন না দর্শকেরা। রুদ্র...